সর্বশেষ
Loading breaking news...

ডিআর কঙ্গোতে কোলটান খনিতে ভয়াবহ ধস, ২ শতাধিক নিহত

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া কোলটান খনিতে এক ভয়াবহ ধসের ঘটনায় অন্তত দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রদেশের বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এই অঞ্চলে খনিটি ধসে পড়লে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে চরম উদাসীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

মৃত্যুফাঁদ বনাম বিশ্ব অর্থনীতির জোগান

রুবায়া খনি থেকে বিশ্বের মোট কোলটান উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করা হয়, যা আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম অপরিহার্য উপাদান—ট্যান্টালাম উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এই তাপ-সহনশীল ধাতু মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান এবং গ্যাস টারবাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত হয়। অথচ এই বিপুল সম্পদ আহরণের জন্য স্থানীয় মানুষজন প্রতিদিন নামমাত্র মজুরিতে, মূলত হাতে খননকার্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন। খনি শ্রমিকেরা গর্তের গভীরে কাজ করার সময় আকস্মিক ভূমিধসে চাপা পড়লে এই বিপর্যয় ঘটে।

উদ্ধার অভিযান ও হতাহতের চিত্র

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা দুইশো ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে খনি শ্রমিক ছাড়াও নারী ও শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। যদিও কিছু মানুষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যারা বর্তমানে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে প্রশাসনের এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা অন্তত ২২৭ জন। বর্ষাকালে নরম ও ভঙ্গুর মাটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনা রয়েছে। দুর্বল অবকাঠামো এবং তদারকির অভাবে প্রায়ই সেখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু এবারের ঘটনাটি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নামানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্রোহী অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি

এই অঞ্চলে খনিজ সম্পদ উত্তোলন নিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। জাতিসংঘের অভিযোগ, এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী প্রতিবেশী রুয়ান্ডার সমর্থনে রুবায়ার খনিজ সম্পদ লুট করে তাদের সশস্ত্র কার্যকলাপের অর্থায়ন করছে। যদিও রুয়ান্ডা এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু এবং খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা আবারও সামনে এলো, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন তুচ্ছ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন