সর্বশেষ
Loading breaking news...

দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণ জানালেন ডা. তাসনিম জারা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. তাসনিম জারা আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছেন। জাতীয় নাগরিক প্ল্যাটফর্ম (এনসিপি) থেকে সরে দাঁড়ানো এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন নানা জল্পনা চলছিল, ঠিক তখনই তিনি তাঁর এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

মঙ্গলবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক সংলাপে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডা. জারা স্পষ্টভাবে জানান, দেশের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি দলীয় রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার এটিই সঠিক সময় বলে তিনি মনে করেন।

দুর্বল কাঠামোর সমালোচনা

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। ডা. জারা জানান, এখানে প্রতিটি স্তরে জটিলতা বিদ্যমান এবং যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, অনেক ক্ষেত্রেই তারাই নিজেদের জবাবদিহির সীমা ও শর্ত নিজেরাই নির্ধারণ করেন। এটি একটি অস্বাস্থ্যকর রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছে।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি উচ্চারিত হচ্ছে, সেই আলোচনা অব্যাহত রাখা জরুরি। যারা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন, তাদের কার্যকর ও নিরপেক্ষ জবাবদিহি নিশ্চিত করা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় সময়ের দাবি।

জনগণের আকাঙ্ক্ষা

জনগণের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি জোর দেন যে, মানুষ আর কোনোভাবেই পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। জনগণের পরিবর্তনের এই তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই তিনি এনসিপি ছাড়ার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি জনগণের ইচ্ছারই প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। তবে এখন তিনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি দলীয় পরিচয়ে নয়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে স্বাধীনভাবে ওই একই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এই সিদ্ধান্ত তাঁর জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকেই নির্দেশ করে।

জনগণের ম্যান্ডেটে বিশ্বাসী

ডা. জারার এই স্বতন্ত্র অবস্থান প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভোটারদের দূরত্ব এবং তাদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি সরাসরি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন, দলীয় সীমাবদ্ধতা ছাড়াই।

তাঁর এই পদক্ষেপ আগামী নির্বাচনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংস্কার ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি

তাঁর মূল বার্তাটি হলো সিস্টেমিক সংস্কার এবং উন্নত জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা। ডা. জারা তাঁর প্রচারণায় এই বিষয়গুলোর ওপর জোর দেবেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে।

তাঁর সমর্থকরা তাঁকে একটি স্বচ্ছ ও জনবান্ধব রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। দলীয় আনুগত্য বর্জন করে তিনি সরাসরি জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্য

এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। ভোটাররা এখন প্রথাগত দলগুলোর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। ঢাকা-৯ আসনে ডা. জারার স্বতন্ত্র প্রার্থীতা এই নতুন রাজনৈতিক প্রবণতার একটি পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতি অসন্তোষ এবং প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের আকাঙ্ক্ষা থেকে এই পরিবর্তন আসছে। আসন্ন নির্বাচনই বলে দেবে ডা. জারার বার্তা কতটা জনপ্রিয়তা লাভ করে।

আরও পড়ুন