সর্বশেষ
Loading breaking news...

বিদায় বেলায় নিজের ভিআইপি সুবিধা নিশ্চিতে আইন পাল্টালেন ড. ইউনূস

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদায় বেলাতেও নিজের ব্যক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের মতো বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে তিনি নিজেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই নির্দেশনার ফলে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার পরও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করবেন।

গোপন প্রজ্ঞাপন ও আইন সংশোধন

তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্না স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা এসআরও নং ২৮৫ সংশোধন করে এই নতুন সুবিধা নেওয়া হয়েছে। আগের আইনে বিদায়ী সরকার প্রধানরা সর্বোচ্চ তিন মাস এই সুবিধা পেতেন, কিন্তু ড. ইউনূস কেবল নিজের জন্য এই সময়সীমা বাড়িয়ে এক বছর করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সুবিধার জন্য আইন তৈরি বা পরিবর্তন করা সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা এই অধ্যাদেশটিকে অনেকে অসাংবিধানিক ও অনৈতিক বলে অভিহিত করেছেন। যদি তিনি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি বা অন্যান্যদের জন্যও সময় বাড়াতেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারত। কিন্তু শুধু নিজের স্বার্থে এই পরিবর্তন তার ১৮ মাসের শাসনামলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ক্ষমতার অপব্যবহারের নজির

সমালোচকরা বলছেন, দীর্ঘ ১৮ মাস ক্ষমতায় থাকাকালে ড. ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ এবং নিজের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করিয়েছেন। এছাড়াও তিনি ক্ষমতার ব্যবহার করে নিজের নামে বিশ্ববিদ্যালয় ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নিয়েছেন। বিদায়কালের এই পদক্ষেপকে তার স্বার্থপরতার চূড়ান্ত উদাহরণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জনমনে ক্ষোভ

নিজের সুবিধা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় আইন পরিবর্তনের এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে তার কাছে যে নৈতিকতা আশা করা হয়েছিল, এই ঘটনায় তা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এটি ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি নেতিবাচক নজির স্থাপন করতে পারে।

আরও পড়ুন