মিন্টো রোডের বাংলো ছাড়ার আগে ফাওজুল কবিরের বাসায় ড. ইউনূসের বিদায়ী ইফতার
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারি বাসভবনের মায়া ত্যাগ করে সাধারণ ভাড়া বাসায় ওঠার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাংলো ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে সাবেক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খানের আয়োজনে একটি বিশেষ ইফতার মাহফিল ও নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। এই ঘরোয়া আয়োজনটি ছিল মূলত সাবেক সরকারের নীতি-নির্ধারকদের এক অনাড়ম্বর মিলনমেলা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিদায়ী সন্ধ্যার চিত্র প্রকাশ্যে আনেন সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করে তিনি জানান, ড. ফাওজুল কবির খান এবং তাঁর পরিবার সরকারি বাসভবন ছেড়ে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে চলে যাচ্ছেন। শফিকুল আলমের এই পোস্টের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, ক্ষমতার উচ্চ পর্যায় থেকে সাধারণ জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি কতটা ছিমছাম ও স্বাভাবিক হতে পারে।
আন্তরিক পরিবেশে বিদায় মুহূর্ত
প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে একটি ছবিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে কেক কাটতে দেখা যায়, যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও এই আয়োজনে কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল না, তবুও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বলে দেয় এটি ছিল এক আবেগঘন বিদায়ী সভা।
উল্লেখ্য যে, ড. ফাওজুল কবির খান অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি বাংলো ছেড়ে তাঁর সাধারণ ভাড়া বাসায় ওঠার এই সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক মহলে বেশ ইতিবাচকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
মিন্টো রোডের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ছাড়ার আগে এই শেষ মিলনমেলাটি উপদেষ্টাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও বন্ধুত্বের স্বাক্ষর হিসেবে থেকে যাবে। ড. ইউনূস এবং তাঁর সহকর্মীদের এই সহজ ও সাধারণ জীবনযাপনের ভঙ্গি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।