সুদানের বাজারে রক্তগঙ্গা: ড্রোন হামলায় ২৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত উত্তর কোরদোফান রাজ্যের একটি জনাকীর্ণ বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি ল’ইয়ার্স’ সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল-সাফিয়া এলাকায় সংঘটিত এই হামলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মিডল ইস্ট মনিটরের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এই খবর প্রকাশ করেছে।
কী ঘটেছিল সেই ভয়াল দিনে?
মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি ল’ইয়ার্স’ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোডারির উত্তর-পূর্বে অবস্থিত একটি ব্যস্ত বাজারে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার সময় বাজারটি নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য সাধারণ নাগরিকের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ ছিল। এই হামলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন: আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা
সংগঠনটি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এটি সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার মৌলিক নীতিকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেছে। জনবহুল এলাকায় বারবার ড্রোন ব্যবহারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা একে ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা ওই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করছে।
কারা এই হামলার জন্য দায়ী?
এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে, এই ঘটনা সুদানের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অঞ্চলে চলমান সংঘাতের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।