‘মব কালচার’ রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি: চবি শিক্ষক হেনস্তায় ফুঁসে উঠেছে ঢাবির সাদা দল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষককে প্রকাশ্যে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। রোববার রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের নেতারা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, শিক্ষাঙ্গনে চলমান এই ‘মব কালচার’ বা সংঘবদ্ধ অরাজকতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সম্মানিত শিক্ষককে জনসমক্ষে লাঞ্ছিত করার ঘটনা উচ্চশিক্ষার পরিবেশে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা।
শিক্ষাঙ্গনে ভয়ের রাজত্ব ও মব জাস্টিসের দাপট
সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানসহ শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক বিধিমালার আওতায় নিষ্পত্তি করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা ‘মব জাস্টিস’ কোনো সভ্য সমাজের সমাধান হতে পারে না। নেতারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, "প্রকাশ্যে অপমান ও শারীরিক হেনস্তা করার এই অপসংস্কৃতি দেশের উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে চরম নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।" অবিলম্বে এই অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষাঙ্গন তার স্বাভাবিক চরিত্র হারাবে।
নেপথ্যের উদ্বেগজনক প্রবণতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি
বিবৃতিতে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে উল্লেখ করা হয়, গত তিন-চার মাস ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষক নিগ্রহের এক অসুস্থ ও আগ্রাসী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাদা দল মনে করে, এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য এক বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, চবি শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও ন্যায়বিচারের কড়া বার্তা
সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটও টেনে এনেছে। তাঁরা বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় যারা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং হুমকি ও হেনস্তায় লিপ্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অপরাধীরা যাতে দীর্ঘ সময় শাস্তির আওতার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তাঁরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কেবলমাত্র ভিন্নমতাবলম্বী হওয়ার কারণে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
পরিশেষে, সাদা দলের নেতারা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা মনে করেন, স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিতিশীলতা কাটবে না। শিক্ষক সমাজের এই ক্রান্তিকালে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর তাঁরা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।