বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচন: ২৩ দিনের প্রচারণা সময়সীমা নির্ধারণ করল ইসি
আসন্ন বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থীদের জন্য প্রচারণার চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন জানিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হাতে মোট ২৩ দিনের মতো মূল্যবান সময় পাচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দের দিন অর্থাৎ আগামী ১৬ মার্চ থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ময়দানে নামতে পারবেন, যা ভোটের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চলবে।
নির্বাচন ভবনে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীরা ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন। কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি যাতে কেউ লঙ্ঘন না করতে পারে, সেজন্য বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আসন শূন্য হওয়ার প্রেক্ষাপট
বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য হওয়ার পেছনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসনে জয়লাভ করেছিলেন। তবে আইন অনুযায়ী একইসঙ্গে দুটি আসনে সদস্যপদ রাখা সম্ভব না হওয়ায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি বহাল রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে এই শূন্য আসনে নতুন করে ভোটের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন।
মনোনয়ন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা
শেরপুর-৩ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যাদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা রয়েছেন। অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনে লড়াই করছেন তিনজন প্রার্থী। ইতোমধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই পর্ব শেষ করেছেন এবং বর্তমানে আপিল আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে, যা প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ মার্চ এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৫ মার্চ। এর ফলে ১৬ মার্চ থেকে প্রার্থীরা টানা ২১ দিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ এপ্রিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে উৎসবমুখর এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বিরাজ করছে।