পোস্টাল ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৪২ কর্মকর্তাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে এক বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী শনিবার, ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আয়োজনে ১৪২ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হবে। গত মঙ্গলবার নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো যারা কেন্দ্রে আসতে পারছেন না, তাদের ভোটের পবিত্রতা পুরোপুরি বজায় রাখা। ডাকযোগে আসা প্রতিটি ভোটের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে এই "বজ্র-আঁটুনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা" গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে চৌকস কর্মকর্তারা
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের অত্যন্ত দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করছেন বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় রয়েছেন বিভিন্ন জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা। এছাড়াও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা তথ্য অফিসারসহ সহকারী কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। তাদের কাঁধেই থাকবে ডাকযোগে আসা প্রতিটি ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার গুরুদায়িত্ব। এই কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাপনার কাজগুলো তদারকি করবেন।
প্রযুক্তি বর্মে ব্যালট
প্রশিক্ষণে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপ হাতে-কলমে শেখানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। ডাকযোগে পাওয়া ভোটের খাম যাচাই থেকে শুরু করে নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে "কিউআর কোড স্ক্যান" করার প্রক্রিয়াটিও বিস্তারিত শেখানো হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রযুক্তির আওতায় থাকায় তথ্য সংরক্ষণ হবে অনেক বেশি নিরাপদ এবং কোনো ধরণের কারচুপির সুযোগ থাকবে না। ইসির এই উদ্যোগের ফলে পোস্টাল ভোটের গণনা প্রক্রিয়া হবে শতভাগ স্বচ্ছ ও নির্ভুল। প্রযুক্তির এই ঢাল প্রতিটি ব্যালটকে সুরক্ষিত রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্ভুল ফলাফল তৈরি
প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'ফরম–১২' প্রস্তুত করার পদ্ধতি সম্পর্কেও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হবে। প্রস্তুতকৃত এই ফরমটি অত্যন্ত নিরাপদে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতিও প্রশিক্ষণে হাতে-কলমে উপস্থাপন করা হবে। ইসির মূল লক্ষ্য হলো পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটিকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা। প্রশিক্ষণের প্রতিটি সেশনে তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন ও আধুনিক দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে।
ভোট গণনা কার্যক্রম
উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধিত ভোটাররা তাদের কাঙ্ক্ষিত ব্যালট পেপার হাতে পেয়েছেন এবং তারা তা ফেরত পাঠাবেন। আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ভোট দিয়ে ব্যালটগুলো ডাকযোগে কমিশনের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে। নির্বাচনের দিনই এই পোস্টাল ব্যালটগুলো সাধারণ ভোটের সঙ্গে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গণনা করা হবে। নির্বাচনি আমেজ ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে বদ্ধপরিকর ইসি।