ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে শিক্ষা কর্মকর্তা আটক, শিক্ষকের চোখের জল মুছল দুদক
শিক্ষার মতো পবিত্র অঙ্গনেও দুর্নীতির কালো ছায়া বিস্তার লাভ করেছে। যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে আটক হয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। ভুক্তভোগী এক শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অত্যন্ত গোপনে ও পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। রবিবার দুপুরে নিজ কার্যালয় থেকে তাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় গ্রেপ্তার করা হয়, যা গোটা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মৃত স্ত্রীর পেনশনের ফাইল আটকে হয়রানি
যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী তার সদ্য প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশনের ফাইল ছাড় করাতে মাসের পর মাস ঘুরছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ তিন মাস ধরে শোকসন্তপ্ত এই স্বামীকে নানা অজুহাতে হয়রানি করে আসছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। ফাইল ছাড়ার বিনিময়ে তিনি দাবি করেন মোটা অঙ্কের ঘুষ। এমনকি টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা এবং মৃত স্ত্রীর বেসিক বেতন কমিয়ে দেওয়ার মতো অমানবিক হুমকিও দেওয়া হয়।
দুদকের নিখুঁত ফাঁদ ও প্রস্তুতি
নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক দুদকের যশোর জেলা কার্যালয়ের শরণাপন্ন হন এবং বিস্তারিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে দুদক কর্মকর্তারা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে একটি ফাঁদ পাতার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিক্ষক ঘুষের টাকা নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করেন। বাইরে ওঁৎ পেতে থাকে দুদকের বিশেষ দল, অপেক্ষায় ছিল কেবল সংকেতের।
টাকার বান্ডিলসহ হাতেনাতে ধৃত
ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা শিক্ষা কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়ার পরপরই সিগন্যাল পেয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে দলটি দ্রুত কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় আশরাফুল আলমের কাছে থাকা ঘুষের টাকাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তার টেবিল ও আলমারি থেকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আচমকা এই অভিযানে শিক্ষা অফিসের অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও তদন্ত
অভিযান শেষে দুদক কর্মকর্তা মো. আল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, আটককৃত শিক্ষা কর্মকর্তাকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। দুর্নীতির এই চক্রের সঙ্গে অফিসের অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শোকগ্রস্ত এক পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক সমাজ।