ঈদযাত্রা: ১৭ মার্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, অনলাইনে তীব্র প্রতিযোগিতা
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রিয়জনের টানে গ্রামে ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ ৭ মার্চ পাওয়া যাচ্ছে আগামী ১৭ মার্চের ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের এই আনন্দযাত্রাকে সফল করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
অনলাইনে টিকিটের লড়াই: ভিন্ন দুই সময়ে ভিন্ন জোন
যাত্রীদের অনলাইন বিড়ম্বনা কমাতে এবং সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে এবার অভিনব কৌশল নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা থেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য দুপুর ২টা থেকে টিকিট বিক্রির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
শতভাগ টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাওয়ায় স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি না থাকলেও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেকেন্ডের ব্যবধানে টিকিট ফুরিয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার্থেই এই সময় বিভাজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
টিকিট প্রাপ্তির পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ও ফিরতি যাত্রা
রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল ৮ মার্চ পাওয়া যাবে ১৮ মার্চের টিকিট এবং ৯ মার্চ মিলবে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট। তবে যাত্রার আনন্দ কেবল যাওয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, ফিরতি টিকিট নিয়েও রেলওয়ে সুনিপুণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী ১৩ মার্চ থেকে শুরু হবে ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি, যেখানে পাওয়া যাবে ২৩ মার্চের টিকিট। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৪ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ মার্চের ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হবে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রেলওয়ে কিছু কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। একজন যাত্রী তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সর্বোচ্চ একবারই টিকিট কিনতে পারবেন, যেখানে সর্বোচ্চ চারটি আসন সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। এছাড়া ভ্রমণের আনন্দ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে টিকিট রিফান্ড বা ফেরতের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। 'টিকিট যার, ভ্রমণ তার'—এই নীতিতেই এবার পরিচালিত হচ্ছে গোটা ঈদযাত্রা।