ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপি ও জামায়াতের হেভিওয়েট নেতারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ রাজপথ পেরিয়ে এবার সরাসরি পৌঁছেছে উচ্চ আদালতে। ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে আইনি লড়াইয়ে নামছেন জামায়াতে ইসলামীর চারজন এবং বিএনপির একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। মঙ্গলবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনগুলোর ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আইনি যুদ্ধে হেভিওয়েট প্রার্থীদের নাটকীয় এন্ট্রি
নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহের আলোচিত নেতা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তাঁর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ইলিয়াছ মোল্লা ও ইকবাল হোসাইন ভূইয়া এবং লালমনিরহাটের ফিরোজ হায়দার ও আনোয়ারুল ইসলাম রাজু এই আইনি লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ আসনের ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ব্যালট বাক্স সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ: নেপথ্যে কি অন্য ইঙ্গিত?
এর আগেও বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী কুড়িগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। আদালত সেই সব আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট আসনের ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী নথিপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে বিতর্কিত আসনগুলোর ফলাফল পুনরায় খতিয়ে দেখার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী গঠিত বিশেষ এই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ২০০১ সালের সংশোধিত আইন মোতাবেক শুনানি পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ দেওয়ানি বিষয়াদির পাশাপাশি হাইকোর্টের এই বেঞ্চ নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করবেন। এখন রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকদের নজর মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় শুনানির দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে এই প্রার্থীদের নির্বাচনী ভাগ্য।