সর্বশেষ
Loading breaking news...

নির্বাচনী উত্তেজনায় ভাড়াটে খুনিদের দৌরাত্ম্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেখানে প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে পেশাদার শ্যুটারদের অস্বাভাবিক উত্থান। অতীতের কোনো নির্বাচন বা রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়েই এই মাত্রায় শ্যুটারদের তৎপরতা দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও (ইসি) গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এই ভাড়াটে খুনিদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তারা নির্ভুল নিশানায় সন্ত্রাসী কাজ সেরে দ্রুত গা ঢাকা দিতে পারঙ্গম।

কয়েক দিন আগ পর্যন্ত ইসির উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে গুজব ছড়ানোর আশঙ্কা। তবে এখন সেই উদ্বেগ ছাপিয়ে যোগ হয়েছে পেশাদার শ্যুটারদের অতিরিক্ত সন্ত্রাস। এরা শুধু খুনখারাবি নয়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর কাজেও দক্ষতার সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এসব খুনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় কাজ করে থাকে। তাদের দ্রুত কর্মপদ্ধতি ও পালিয়ে যাওয়ার কৌশল রীতিমতো উদ্বেগজনক।

টার্গেট কিলিংয়ের নতুন রূপ

সাম্প্রতিক গুলির ঘটনাগুলো সাধারণ রাজনৈতিক সংঘর্ষের মধ্যে পড়ছে না; এগুলো স্পষ্টতই সুপরিকল্পিত টার্গেট কিলিং। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ওসমান হাদির মাথায় গুলির ঘটনা থেকে শুরু করে তারিক সাইফ, মামুন হয়ে মোছাব্বির হত্যা পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনায় এদের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই ‘গান রানিং’ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করছে। গত এক বছরে বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডই প্রকাশ্যে, কাছ থেকে গুলি করে ও পেশাদার শ্যুটারদের মাধ্যমে ঘটেছে।

ছায়া জগতের বিস্তার

রাজধানীর কয়েকটি ঘটনায় রুবেল ও ইব্রাহিমসহ পেশাদার শ্যুটারদের গ্রেপ্তারের পর পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ধারণার বাইরে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছায়াতলে থাকা প্রায় অর্ধশত দক্ষ শ্যুটার রাজধানীতে সক্রিয় রয়েছে। এরা নির্বাচনের আগে শুধু ভাড়ায় খুনাখুনি নয়, বরং ভয়ানক ত্রাস সৃষ্টি করতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। বিভিন্ন অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এসব ভাড়াটে খুনিদের।

কম ঝুঁকি, বেশি সন্ত্রাস

শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখন আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে সরাসরি মাঠে না নেমে পেশাদার শ্যুটারদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে, যা তাদের জন্য "কম ঝুঁকি ও কম খরচ" নিশ্চিত করছে। সারা দেশে পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযান চললেও শ্যুটাররা এখনো সেভাবে টার্গেট হয়নি। বরং অভিযানের মধ্যেও তারা টার্গেট কিলিং ঘটিয়ে চলেছে। রাষ্ট্র যদি দ্রুত এসব শ্যুটার, অবৈধ অস্ত্র ও তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারে, তবে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন