মঙ্গল নয়, লক্ষ্য এখন রুপালি চাঁদ: ১০ বছরের মধ্যেই শহর গড়ার মাস্টারপ্ল্যান ইলন মাস্কের
স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক তাঁর দীর্ঘদিনের মঙ্গলে বসতি গড়ার পরিকল্পনা থেকে সরে এসে এখন চাঁদের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, আগামী এক দশকের মধ্যেই চাঁদের বুকে একটি স্থায়ী ও স্ব-নির্ভর শহর গড়ে তোলা সম্ভব। মহাকাশ গবেষণার এই নাটকীয় পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
লাল গ্রহ বনাম রুপালি চাঁদ: কেন এই কৌশলী বদল?
মঙ্গলে যাওয়ার তুলনায় চাঁদে পৌঁছানো অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী। মাস্কের মতে, মঙ্গলে পৌঁছাতে ছয় মাস সময় লাগে এবং উপযুক্ত সুযোগ আসে প্রতি ২৬ মাস অন্তর। অন্যদিকে, পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে সময় লাগে মাত্র দুই দিন এবং প্রতি ১০ দিন পরপর যান পাঠানো সম্ভব। এই কারিগরি সুবিধার কারণেই তিনি প্রথমে চাঁদে একটি মহাকাশ নগরী গড়ার পরিকল্পনা করছেন।
চাঁদে শহর গড়ার মূল ভিত্তি হলো সেখানকার মাটি ও খনিজ সম্পদ ব্যবহার করে অক্সিজেন ও পানি উৎপাদন করা। মাস্ক মনে করেন, মহাকাশযানে করে পৃথিবী থেকে সব রসদ নেওয়া অবাস্তব, তাই চাঁদকেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ঘাঁটিতে রূপান্তর করতে হবে। তবে চাঁদের চরম তাপমাত্রা এবং ক্ষতিকর ধূলিকণা মানুষের বসবাসের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
স্পেসএক্স ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালের মধ্যে চাঁদে একটি মানুষবিহীন মহাকাশযান অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নাসার আর্টেমিস মিশনের সহযোগী হিসেবে কাজ করে তারা এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মঙ্গলে যাওয়ার পথকেও সহজ করে দেবে। এটি মহাকাশ জয়ের এক বিশাল মাইলফলক হতে যাচ্ছে।
যদিও এক দশকে শহর গড়ার কথাটি অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হতে পারে, কিন্তু মাস্কের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বরাবরই সবাইকে অবাক করেছে। চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করা সম্ভব হলে মহাকাশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। এখন দেখার বিষয়, স্পেসএক্সের এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যায়।