ইংল্যান্ডের রুদ্ধশ্বাস জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত; আশা বেঁচে রইল পাকিস্তানের
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে গ্রুপ পর্বের উত্তেজনা তুঙ্গে। শুক্রবার কলম্বোতে ইংল্যান্ডের কাছে নিউজিল্যান্ডের পরাজয় কেবল কিউইদের জন্যই নয়, একই সাথে পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে। ইংল্যান্ডের এই রোমাঞ্চকর চার উইকেটের জয় একদিকে যেমন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে, তেমনই অন্যদিকে শেষ চারে যাওয়ার সমীকরণ জটিল করে তুলেছে নিউজিল্যান্ডের জন্য।
প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে সংগ্রহ করেছিল ১৫৯ রান। জবাবে, ইংল্যান্ড তিন বল হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায়। এই জয়ের নায়ক উইল জ্যাকস, যিনি দুরন্ত অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরার খেতাব অর্জন করেন। বল হাতে দুটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তিনি মাত্র ১৮ বলে ৩২ রানের এক কার্যকরী ইনিংস খেলে দলের বিজয় নিশ্চিত করেন।
অবিশ্বাস্য কামব্যাক: জ্যাকস-রেহানের বীরত্বগাথা
রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল বিপর্যয়কর। মাত্র ২ রানে দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলারকে হারিয়ে তারা চরম বিপদে পড়ে। এরপর হ্যারি ব্রুক এবং জ্যাকব বেথেলের ৪৮ রানের জুটিতে প্রাথমিক ধস সামাল দিলেও দ্রুত এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেলে পুনরায় চাপে পড়ে ইংলিশ শিবির। ১৪.৩ ওভারে ১০০ রান তোলার পর শেষ পাঁচ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন দাঁড়ায় ৫৯ রান।
যখন জয়ের জন্য ১৯ বলে ৪৩ রান প্রয়োজন, তখন দৃশ্যপটে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ। সপ্তম উইকেটে তাঁদের ৪৪ রানের ঝোড়ো জুটিই ইংল্যান্ডকে নিশ্চিত জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। গ্লেন ফিলিপসের করা ম্যাচের অষ্টাদশ ওভারে ২২ রান তুলে ম্যাচ নিজেদের দিকে ঝুঁকিয়ে দেয় ইংল্যান্ড। এরপর স্যান্টনারের ওভারে ১৬ রান এলে জয়ের সমীকরণ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
কিউইদের দুশ্চিন্তা ও বাবর আজমদের সম্ভাবনা
এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড গ্রুপ দুইয়ের শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড বর্তমানে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের অবস্থান বর্তমানে তিন নম্বরে, তাদের সংগ্রহ মাত্র ১ পয়েন্ট। তবে রান রেটের নিরিখে পাকিস্তান কিউইদের চেয়ে এগিয়ে থাকায় বাবর আজমদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।