সর্বশেষ
Loading breaking news...

এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: কিয়ার স্টারমারের গদিতে কম্পন, চাপে ডাউনিং স্ট্রিট

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

জেফরি এপস্টেইনের ভয়াবহ কেলেঙ্কারির ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে ব্রিটিশ রাজনীতিতে। ব্যক্তিগত সংযোগ না থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঝড়েই প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ক্ষমতা হারানোর সমূহ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একের পর এক সংকটে জর্জরিত ডাউনিং স্ট্রিট এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে, যেখানে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব কার্যত এক সুতোর ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে।

ম্যান্ডেলসনের বিশ্বাসঘাতকতা

সংসদের উত্তপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে কিয়ার স্টারমার স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বের বিষয়টি অবগত ছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এই স্বীকারোক্তি তাঁর নেতৃত্বকে নড়বড়ে করে দিয়েছে এবং লেবার পার্টির অভ্যন্তরে বিদ্রোহের আগুন উসকে দিয়েছে। ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি তদন্ত চলছে এবং তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

সংসদে দাঁড়িয়ে স্টারমার এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ম্যান্ডেলসন দেশ, সংসদ এবং দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। অন্যদিকে, পিটার ম্যান্ডেলসন এক বিবৃতিতে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, দণ্ডিত হওয়ার পরও তাঁকে বিশ্বাস করা ছিল এক গুরুতর ভুল।

এই কেলেঙ্কারির বৈশ্বিক বিস্তার স্পষ্ট। যুক্তরাজ্যে জনরোষ এতটাই তীব্র যে রাজা তৃতীয় চার্লসকেও পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত তাঁর ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে রাজকীয় উপাধি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বড় কোনো রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়নি কাউকেই।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনে এই ঝড় কেবল এপস্টেইনের যৌন পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্রিটিশ রাজনীতিকে নতুন করে অস্থির করে তুলছে। ভূমিধস জয় নিয়ে ক্ষমতায় এলেও দুই বছরের কম সময়ে কিয়ার স্টারমার রাজনৈতিকভাবে প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন। সংসদে তাঁর সাম্প্রতিক দুর্বল উপস্থিতি তাঁকে এক ভঙ্গুর নেতায় পরিণত করেছে।

আরও পড়ুন