এভারটন ডিফেন্ডার মাইকেল কিনের চুল টানার দায়ে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বহাল রইল
ফুটবল মাঠে উত্তেজনার বশে প্রতিপক্ষের চুল টেনে ধরার মতো বিরল ঘটনার সাক্ষী হলো প্রিমিয়ার লিগ। গত বুধবার এভারটন ও উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মাইকেল কিন। ম্যাচের এক উত্তপ্ত মুহূর্তে উলভস তারকা তোলু আরোকোদারের চুল টেনে ধরেন এভারটনের এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। রেফারি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় রিপ্লে দেখে কিনকে সরাসরি লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রেশ ধরে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়েছেন এভারটনের এই ৩২ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক।কঠোর শাস্তির খড়গ ও নিষেধাজ্ঞার বহরখেলার প্রচলিত আইনে চুল টানার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও রেফারিরা এটিকে গুরুতর সহিংস আচরণ হিসেবে গণ্য করেছেন। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তিন ম্যাচের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন মাইকেল কিন। এই শাস্তির কারণে এফএ কাপে সান্ডারল্যান্ড এবং প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলা ও লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে তিনি মাঠে নামতে পারবেন না। দলের অন্যতম প্রধান ডিফেন্ডারকে হারিয়ে এভারটন শিবির এখন রক্ষণভাগ সামলানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। আসন্ন ম্যাচগুলোতে কিনের অনুপস্থিতি দলের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আপিল খারিজ ও ক্লাবের বিস্ময়এভারটন কর্তৃপক্ষ ডিফেন্ডার মাইকেল কিনের লাল কার্ডের বিরুদ্ধে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আপিল করেছিল। তবে এফএ প্যানেল সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়ে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাই বহাল রেখেছে। রায় মেনে নিলেও ক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। এভারটন ম্যানেজমেন্ট মনে করে, ঘটনার তীব্রতা বিবেচনায় কিনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই শাস্তি অতিরিক্ত কঠোর হয়ে গেছে। ক্লাবের মতে, এমন লঘু অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।ময়েসের ক্ষোভ ও তুলনামূলক বিতর্কআপিল খারিজের পরপরই এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন এভারটন কোচ ডেভিড ময়েস। এফএ প্যানেলের সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে তিনি চরম হতাশা ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। ময়েস তুলনা টেনেছেন আর্সেনাল ও লিভারপুলের সাম্প্রতিক একটি ম্যাচের ঘটনার সঙ্গে, যেখানে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি আহত কনর ব্র্যাডলিকে ধাক্কা দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কারোর দিকে বল ছুড়ে মারা বা ধাক্কা দেওয়া যদি লঘু শাস্তি পায়, তবে দুর্ঘটনাক্রমে চুলে টান লাগলে কেন তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হবে? ময়েসের মতে, এই দ্বিমুখী আচরণ লিগের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।ভিএআর প্রযুক্তি নিয়ে নতুন প্রশ্নএভারটন কোচের মতে, এই ঘটনার জন্য এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও প্রাপ্য ছিল না, সেখানে ভিএআরের হস্তক্ষেপ ও এমন কঠোর সিদ্ধান্ত একেবারেই অযৌক্তিক। তিনি মনে করেন, ভিএআর প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ফুটবলের স্বাভাবিক গতি ও আবেগ নষ্ট হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রক্ষণভাগের শক্তি কমে যাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কিত। আগামী ম্যাচগুলোতে কিনের বিকল্প হিসেবে কাদের মাঠে নামানো হবে, তা নিয়ে নতুন করে ছক কষতে হচ্ছে এভারটন কোচকে। ফুটবল পন্ডিতরাও এই শাস্তির যৌক্তিকতা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত মতামত দিচ্ছেন।