হবিগঞ্জে রেস্তোরাঁয় চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা আটক
হবিগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক বহিষ্কৃত নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার রাতে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁ থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের হাতেনাতে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন। আটককৃত প্রধান অভিযুক্ত হলেন এনামুল হক সাকিব, যিনি সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা কমিটির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মধ্যরাতের নাটকীয়তা
স্থানীয় সূত্রমতে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এনামুল হক সাকিব ও তার দুই সহযোগী চৌধুরী বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করেন। সেখানে তারা বেআইনিভাবে চাঁদা দাবি করলে রেস্তোরাঁর মালিক ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে তাদের প্রতিরোধ করেন। ক্ষুব্ধ জনতা ও ব্যবসায়ীরা তাদের তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে সেনাবাহিনীকে খবর দেন। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের নিজেদের জিম্মায় নেয়, যা এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
বিতর্কের শেকলে অতীত
উল্লেখযোগ্য যে, আটককৃত এনামুল হক সাকিবের বিরুদ্ধে আগেও বহু অভিযোগ ছিল। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সহিংসতায় উসকানি, মামলা-বাণিজ্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পূর্বে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তার এই গ্রেফতারের ঘটনা পুনরায় তার বিতর্কিত অতীতকে সামনে এনেছে। স্থানীয়দের মতে, তার কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার শান্তি বিঘ্নিত করছিল।
পুলিশের আইনি পদক্ষেপ
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যৌথ বাহিনী অভিযুক্তদের থানায় হস্তান্তর করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। এই গ্রেফতারের ফলে অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃঢ়তার বার্তা পৌঁছেছে। জনগণ আশা করছে, অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে।
জনগণের প্রতিরোধ শক্তি
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, জনতা সংঘবদ্ধ হলে অন্যায় প্রতিরোধ সম্ভব। রেস্তোরাঁয় চাঁদাবাজির মতো ঘৃণ্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সাহসী পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। বহিষ্কৃত ছাত্রনেতার এই অপকর্ম সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, কতিপয় ব্যক্তি কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছে।