বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো পেঁপে চেনার উপায় জানিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা
বাজার থেকে কেনা চকচকে পেঁপে আসলে স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিতভাবে এসব রাসায়নিকযুক্ত ফল গ্রহণ করলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা, বমি ভাব এবং মাথা ঘোরার মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পেঁপে দ্রুত পাকাতে ব্যবহৃত বিপজ্জনক ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফলের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণকে একবারে ধ্বংস করে দেয়। ফলে এসব ফল দেখতে আকর্ষণীয় মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা মানবদেহের জন্য কেবল বিষ ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ ভোক্তাদের এই বিষয়ে এখনই সচেতন হওয়া এবং বাজারের নিখুঁত ফল কেনা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
মরণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কতা
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার থেকে ফল কেনার সময় সাধারণ ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাসায়নিকমুক্ত ও প্রাকৃতিক ফল চিনে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করা এখন কেবল সচেতনতা নয়, বরং জীবন রক্ষার অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সচেতনতাই হচ্ছে খাদ্যে ভেজাল এড়ানোর প্রধান উপায় এবং এটি জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। তারা পেঁপে কেনার সময় কিছু সাধারণ কিন্তু কার্যকর উপায় অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন যা ভেজাল শনাক্ত করতে সহায়ক হবে। এসব নিয়ম মেনে চললে ফলের রূপে লুকিয়ে থাকা "নিখুঁত বিষ" থেকে নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করা সম্ভব।
রং ও গঠন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পেঁপে কেনার সময় প্রথমেই এর গায়ের রং এবং বাহ্যিক গঠনের দিকে তীক্ষ্ণ নজর দিতে হবে। রাসায়নিকভাবে পাকানো পেঁপে সাধারণত অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হলুদ বা গাঢ় কমলা রঙের হয় এবং তা দেখতে একেবারে নিখুঁত লাগে। অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফলে হালকা হলুদ, সবুজ ও কমলার এক ধরণের স্বাভাবিক মিশ্রণ থাকে যা চোখে আরামদায়ক। প্রাকৃতিক ফলের গায়ে অনেক সময় ছোট ছোট দাগ বা অসামঞ্জস্যতা দেখা যায় যা রাসায়নিক ফলের মতো অতটা মসৃণ নয়। তাই খুব বেশি নিখুঁত বা দাগহীন ফল দেখলে সেটির গুণগত মান নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা যুক্তিসঙ্গত।
গন্ধ ও স্বাদ
ফলের গুণাগুণ ও মান যাচাই করার জন্য এর ঘ্রাণ বা সুবাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপেতে সবসময় একটি মিষ্টি ও সতেজ সুবাস পাওয়া যায় যা ফলের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় বহন করে। তবে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হলে ফলের সেই স্বাভাবিক সুবাস হারিয়ে যায় এবং অনেক সময় সেখান থেকে কেমিক্যালের গন্ধ পাওয়া যায়। স্বাদের ক্ষেত্রেও এই পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট কারণ প্রাকৃতিক পেঁপে খেতে মিষ্টি ও রসালো হলেও রাসায়নিক পেঁপে তেতো লাগে। খাওয়ার সময় জিভে বা গলায় কোনো ধরণের অস্বস্তি অনুভূত হলে সেই ফল সাথে সাথে পরিহার করা উচিত।
স্পর্শ দিয়ে যাচাই
ফলের ভেতরের অবস্থা বোঝার জন্য আঙুল দিয়ে আলতো করে চাপ দিয়ে দেখা একটি প্রাচীন কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি। রাসায়নিকযুক্ত পেঁপে সাধারণত বাইরে থেকে অতিরিক্ত নরম অনুভূত হয় এবং চাপ দিলে আঙুলের দাগ সহজেই গর্ত হয়ে বসে যায়। প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপে তুলনামূলকভাবে কিছুটা শক্ত থাকে এবং চাপের পর তা আবার দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে মৌসুমি ফল কেনা এবং অতিরিক্ত চকচকে ও মসৃণ ফল এড়িয়ে চলাই হচ্ছে বুদ্ধিমত্তার কাজ। যেকোনো ফল খাওয়ার আগে তা পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া স্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।