সর্বশেষ
Loading breaking news...

শীতকালীন শিশুরোগ প্রতিরোধে চিকিৎসকদের কার্যকরী পরামর্শ ও সচেতনতার আহ্বান

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

শীতকাল শিশুদের জন্য এক বিশেষ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে এবং এই সময়ে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের প্রকোপ বহুগুণ বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বদ্ধ পরিবেশ এবং শুষ্ক আবহাওয়া জীবাণুর বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে যা শিশুদের নাজুক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ঘরের হিটার ব্যবহারের ফলে বাতাসের আর্দ্রতা কমে গিয়ে নাক ও গলার ভেতরের সুরক্ষা স্তরকে দুর্বল করে দেয়। এছাড়া শীতকালে পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর অভাবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দেয় যা শিশুর শারীরিক সুরক্ষাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

পুষ্টির মাধ্যমে সুরক্ষা

শিশুদের শীতকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই এবং এটিই রোগ প্রতিরোধের প্রধান ভিত্তি। খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন কমলা, লেবু, ডিম ও সামুদ্রিক মাছ রাখা একান্ত প্রয়োজন। "রঙিন সবজি ও উষ্ণ স্যুপ শিশুর শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে।" ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে শিশুদের নিয়মিত গরম ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে যা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সতেজ রাখবে।

পরিচ্ছন্নতা ও আর্দ্রতা

শীতকালে জলপানের প্রতি অনীহা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারে যা শরীর থেকে টক্সিন দূর করার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। হালকা গরম জল বা ঘরে তৈরি ফলের রস নিয়মিত পান করালে শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং জীবাণুর প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়ে। একইসাথে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বিশেষ করে খাওয়ার আগে এবং বাইরে থেকে ফেরার পর কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস কঠোরভাবে পালন করতে হবে। অপরিষ্কার হাতই অধিকাংশ সময় সংক্রামক ব্যাধির প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করে যা অভিভাবককে গুরুত্বের সাথে তদারকি করতে হবে।

সক্রিয়তা এবং বিশ্রাম

ঠান্ডার কারণে বাইরে খেলাধুলা কমে গেলেও ইনডোর গেমস বা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক সক্রিয়তা ধরে রাখা অপরিহার্য। পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া গেলে শিশুকে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভিটামিন ডি পূরণের একটি প্রাকৃতিক ও কার্যকরী উপায় হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি শিশুদের বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি কারণ ঘুমের মধ্যেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠিত হয়। শোয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা টিভি দেখা বন্ধ করলে ঘুমের গুণগত মান বাড়ে যা শিশুর সার্বিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

কখন চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হবেন

শীতকালীন সাধারণ সর্দি-কাশি অনেক সময় নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর জটিলতায় রূপ নিতে পারে যা সময়মতো শনাক্ত করা জরুরি। যদি শিশুর জ্বর টানা তিন দিনের বেশি থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় অথবা সে খাবার ও জল গ্রহণ বন্ধ করে দেয় তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। "সঠিক সময়ে ফ্লু শট নেওয়া এবং কাশি-হাঁচির শিষ্টাচার শেখানোই হচ্ছে শীতকালীন সুরক্ষার অন্যতম চাবিকাঠি।" সামান্য সচেতনতা এবং নিয়মমাফিক জীবনযাপন আপনার সন্তানের শীতকালকে নিরাপদ ও রোগমুক্ত রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন