রূপগঞ্জে রপ্তানিমুখী কারখানায় কোটি টাকার পণ্য লুট: এক প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তার স্বপ্নভঙ্গের নেপথ্যে চাঁদাবাজরা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে একটি রপ্তানিমুখী কারখানায় দুর্ধর্ষ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। চাঁদা না পেয়ে ‘বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী সফল উদ্যোক্তা মনোয়ার হোসেন ওরফে অপুর এই কারখানায় উৎপাদিত জিআই তার সুইজারল্যান্ড ও জার্মানিসহ বিশ্বের ১২টি দেশে রপ্তানি হতো। কিন্তু দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় এখন হুমকির মুখে এই সম্ভাবনাময় শিল্প প্রতিষ্ঠানটি।
রপ্তানিমুখী কারখানায় তাণ্ডব ও কোটি টাকার লুণ্ঠন
ভুক্তভোগী মালিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কারখানাটিতে ট্রাক নিয়ে এসে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। তারা কেবল কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল লুট করেনি, বরং বাধা দিতে গেলে কারখানার ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ ও কর্মচারী জুলহাস উদ্দিনকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে চালানো এই লুটপাটে প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। ঘটনার পর দুই দিন উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পুলিশের পাহারায় সীমিত পরিসরে কাজ চলছে, তবে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনো চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চাঁদার দাবিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও মামলার জটিলতা
ঘটনার নেপথ্যে ১০ লাখ টাকা এককালীন এবং মাসে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় বিএনপির একটি চক্র এই চাঁদা দাবি করে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার মূল নেতাকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মামলার সময় প্রভাবশালী ওই নেতার নাম বাদ দিতে পুলিশ চাপ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মালিক মনোয়ার হোসেন। শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়াই উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
অস্বীকৃতি ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষা
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান জানান, তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত নন এবং কাউকে চেনেন না। অন্যদিকে, রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন রাজনৈতিক প্রভাবে মামলার নাম কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সত্য ঘটনার ভিত্তিতেই মামলা নেওয়া হয়েছে। এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, দলীয় পরিচয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এক প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তার তিলে তিলে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি এখন ন্যায়বিচার আর নিরাপত্তার প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে।