রাজশাহীতে চাঞ্চল্য: ভুয়া ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের কার্ড পেলেন বিএমডি’র পিএ বনি
রাজশাহীতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডি) এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের কার্ড সংগ্রহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিএমডি’র চেয়ারম্যানের পিএ হিসেবে কর্মরত মো. বনি ইসরাইল নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কার্ড বাগিয়ে নিয়েছেন। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে।
প্রতারণার আশ্রয় ও তথ্য গোপন
অনুসন্ধানে জানা যায়, বনি ইসরাইল মূলত একজন সরকারি কর্মচারী, যা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তাকে পর্যবেক্ষক হওয়ার অযোগ্য করে। তিনি তার পেশাগত পরিচয় গোপন করে একটি নামসর্বস্ব এনজিওর প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করেন এবং নিজেকে ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, বনি কখনই ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন না। এটি সম্পূর্ণ প্রতারণা।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
বিষয়টি নজরে আসার পর রাজশাহী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে বনির পর্যবেক্ষক কার্ড বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "ভুল তথ্য দিয়ে কেউ কার্ড নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএমডি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেব।" পুলিশকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
বিএমডি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিএমডি’র নির্বাহী পরিচালক জানান, বনি ইসরাইল অফিস থেকে কোনো অনুমতি না নিয়েই এই কাজ করেছেন। সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করার দায়ে তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "ব্যক্তিগত অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে।"
জনমনে প্রশ্ন
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একজন সরকারি কর্মচারী কীভাবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এত বড় জালিয়াতি করতে পারল? ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পর্যবেক্ষক নিয়োগে আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।