সর্বশেষ
Loading breaking news...

বগুড়ায় সীমানা বিরোধের জেরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বগুড়ার গাবতলীতে বাড়ির সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে এক কৃষককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম আবু বক্কর সিদ্দিক, যিনি উপজেলার জাতহলিদা মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় সংঘটিত এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত বুলু প্রামানিকের ছেলে মো. মন্টু, মো. বাবলু ও মো. মামুনের বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরোনো বিবাদ চলছিল। এছাড়া আজিজার রহমানের ছেলে আতাউর রহমানের সঙ্গেও তার বিরোধ ছিল। জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত সোমবার সন্ধ্যায় সহিংস রূপ নেয়, যা গ্রামের শান্তি বিনষ্ট করে।

নৃশংস হামলার বিবরণ

অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবু বক্কর সিদ্দিককে রাস্তায় আটক করে। এরপর তারা তাকে নির্মমভাবে মারধর শুরু করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, "হামলাটি ছিল অত্যন্ত বর্বরোচিত, যার ফলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।" এই হামলার নৃশংসতা এলাকাবাসীকে হতবাক করে দিয়েছে।

হতাহতের পরিসংখ্যান

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সংঘর্ষে নারীসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন জেমি খাতুন (৩৫), শিফা খাতুন (২৫), বৃষ্টি খাতুন (১৫) এবং আতাউর রহমান (৫৫)। বর্তমানে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

পুলিশি পদক্ষেপ ও তদন্ত

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) হুমায়ন কবির এবং গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান আনিছ। ওসি নিশ্চিত করেছেন যে, নিহতের মরদেহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

আরও পড়ুন