কাঠ কুড়াতে গিয়ে ৩৫ হাতির পালের পায়ে পিষ্ট কৃষক, শেরপুরে আতঙ্ক
শেরপুরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো, যেখানে জীবিকার তাগিদে কাঠ কুড়াতে গিয়ে বন্য হাতির পালের নির্মম আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন আহমেদ আলী নামের এক কৃষক। শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০টি হাতির একটি বিশাল দলের সামনে পড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আচমকা ধেয়ে আসা মৃত্যুর এই ছোবলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চোখের পলকে ৩৫ হাতির ভয়াল আক্রমণ
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহমেদ আলী আরও দুই-তিনজন সঙ্গীকে নিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল বন্য হাতির বিশাল এক পাল। হঠাৎ করেই হাতির দল তাদের ওপর চড়াও হয় এবং আহমেদ আলীকে আক্রমণ করে পায়ে পিষ্ট করে, এসময় তার সঙ্গীরা কোনোক্রমে দৌড়ে পালিয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন।
উদ্ধার ও মর্মান্তিক পরিণতি
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় আহমেদ আলীকে উদ্ধার করেন। তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টায় দ্রুত শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন, যা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
ক্ষতিপূরণের আশ্বাস ও সহায়তা
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকেও শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপে নিহতের পরিবার কিছুটা স্বস্তি পেলেও, স্বজন হারানোর বেদনা তাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
থামছে না মৃত্যুর মিছিল
শেরপুরের এই সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে মানুষ ও বন্য হাতির সংঘাত যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর একই এলাকার সোনাঝুড়ি পাহাড়ে হাতির ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ফারুক হোসেন নামে এক ইউটিউবার ‘হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে’ নিহত হয়েছিলেন। মাস না পেরোতেই আবারও একই ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।