সর্বশেষ
Loading breaking news...

২৮ ফেব্রুয়ারি: ইতিহাসের বাঁকে সাম্রাজ্যের পতন, বিজ্ঞানের জয় ও বাংলাদেশের মাইলফলক

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
সময় প্রবহমান। এই প্রবহমান স্রোতে ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হয় এমন সব ঘটনা, যা কখনো বিপ্লবের অগ্নিঝরা গল্প শোনায়, আবার কখনো বিজ্ঞানের জয়যাত্রার বার্তা দেয়। আজকের এই দিনে পৃথিবী দেখেছে বহু উত্থান-পতন, সাম্রাজ্যের ভাঙা-গড়া এবং কালজয়ী সব আবিষ্কার। ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখটি বিশ্ব ইতিহাসের মানচিত্রে কেবল একটি দিন নয়, বরং এক অনন্য দর্পণ, যেখানে প্রতিফলিত হয় মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রা ও পরিবর্তন।
 

ইতিহাসের রণক্ষেত্র: মুক্তি ও পরাধীনতার মহাকাব্য

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১০৬৬ সালের এই দিনে ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবি চালু হয়েছিল, যা আজও ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ১৫২২ সালে ডেনমার্কের রাজার বিরুদ্ধে সুইডিশ জনগণের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৫৬৮ সালে সম্রাট আকবরের কাছে রানা উদয় সিংয়ের আত্মসমর্পণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার মিছিলে ১৯১৯ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্তানের অভ্যুদয় এবং ১৯২২ সালে মিশরের স্বাধীনতা লাভ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। ১৯৪৮ সালের এই দিনেই ব্রিটিশ সৈন্যদের শেষ দলটি ভারত ত্যাগ করে দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের সমাপ্তি ঘটায়, যা উপমহাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে।
 

বিজ্ঞানের জয়জয়কার ও বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁকবদল

বিজ্ঞানের আঙিনায় ২৮ ফেব্রুয়ারি এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯২৮ সালে কলকাতার মাটিতে চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন ‘রামন এফেক্ট’ আবিষ্কার করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারির কাজ সম্পন্ন হয় এবং ১৯৮২ সালে উদ্বোধন করা হয় স্থাপত্যশৈলীর বিস্ময় জাতীয় সংসদ ভবন।

তবে এই দিনটি রক্তে ভেজা স্মৃতিরও; ১৯৮৪ সালে স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে ছাত্রনেতা সেলিম ও দেলোয়ার শহীদ হন, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। এ ছাড়া ২০১৩ সালের এই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় প্রদান করে, যা দেশের রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলে।
 

মনীষীদের পদচিহ্ন: জন্ম ও মহাপ্রয়াণের কালপঞ্জি

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার জগতেও আজকের দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয়। নাট্যব্যক্তিত্ব গিরিশচন্দ্র ঘোষ, সাংবাদিকতার প্রবাদপুরুষ এ বি এম মূসা, জনপ্রিয় লেখক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলা পপ সংগীতের সম্রাট আজম খানের জন্ম এই দিনে। তাঁদের মেধা ও সৃজনশীলতা আমাদের জাতীয় জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, মহাপ্রয়াণের তালিকায় রয়েছেন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং জওহরলাল নেহরুর সহধর্মিণী কমলা নেহরু। ২০১৯ সালের এই দিনে আমরা হারিয়েছি বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহ আলমগীরকে। জন্ম আর মৃত্যুর এই খেলায় মনীষীদের রেখে যাওয়া কাজ আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে, যা ইতিহাসের পাতায় তাঁদের চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

আরও পড়ুন