কিংবদন্তি সিলভার সঙ্গী হয়ে ঢাকায় পৌঁছালো ফিফা বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি
অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার ফিফা বিশ্বকাপের সেই সোনালি ট্রফি এখন রাজধানী ঢাকার মাটিতে। বুধবার সকাল দশটায় ট্রফিটি নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি গিলবার্তো সিলভা। এই মহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে সারা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এখন এক অভূতপূর্ব আনন্দ ও গভীর উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফিফা বিশ্বকাপের এই আগমনী বার্তা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন এবং উজ্জ্বল মাত্রা যোগ করেছে। এই সফরকে ঘিরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন প্রাণের স্পন্দন লক্ষ্য করা যাচ্ছে যা সবাইকে দারুণভাবে আলোড়িত করেছে।
রাজকীয় ট্রফি ও উন্মাদনা
বিমানবন্দরের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজকীয় এই ট্রফিটিকে সরাসরি হোটেল র্যাডিসনে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ দুপুর দুইটার পর থেকে সেখানে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে যেখানে শুধুমাত্র আমন্ত্রিত দর্শকরা এটি দেখার সুযোগ পাবেন। তবে সাধারণ ভক্তদের জন্য সরাসরি দেখার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় অনেক ফুটবল অনুরাগী ভক্তের মনে কিছুটা আক্ষেপের সৃষ্টি হয়েছে। তা সত্ত্বেও হোটেলের বাইরে ফুটবল প্রেমী জনতাকে প্রিয় ট্রফিটির এক পলক দেখা পেতে প্রবল আগ্রহে ভিড় জমাতে দেখা যায়। আয়োজক কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রদর্শনীতে "অত্যন্ত কড়াকড়ি" আরোপ করেছেন বলে জানা গেছে।
১৫০ দিনের বিশ্বভ্রমণ
এটি ফিফা ও কোকা-কোলার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ট্রফি ট্যুরের ষষ্ঠ আসর যা গত ৩ জানুয়ারি রিয়াদ থেকে যাত্রা শুরু করেছে। এই বৈশ্বিক ভ্রমণে ট্রফিটি বিশ্বের ৩০টি সদস্য দেশের মোট ৭৫টি শহর পরিদর্শন করবে যা ফুটবলের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক আয়োজন। দীর্ঘ ১৫০ দিনের এই যাত্রা মূলত বিশ্বের সকল প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার একটি বিশেষ প্রয়াস। এই সফরের মাধ্যমেই ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের জোয়ার সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পর ট্রফিটি তার পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হবে যা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মহাদেশ অতিক্রম করবে।
সর্ববৃহৎ ফুটবল আসর
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ উৎসব যেখানে অংশ নেবে রেকর্ড সংখ্যক ৪৮টি দল। উত্তর আমেরিকার তিনটি শক্তিশালী দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই বিশাল এবং ঐতিহাসিক কর্মযজ্ঞের আয়োজন করবে। সর্বমোট ১০৪টি ম্যাচের এই আসর ফুটবল বিশ্বের জন্য এক অভূতপূর্ব শিহরণ এবং নতুন অভিজ্ঞতার বার্তা নিয়ে আসবে। ঢাকার মাটিতে এই ট্রফির উপস্থিতি মূলত সেই আসন্ন মহাযজ্ঞেরই একটি ক্ষুদ্র কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী খণ্ড চিত্র মাত্র। এই বর্ধিত কলেবরের আসর ফুটবলের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী আরও সুসংহত করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ফুটবল জ্বরে বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ফুটবল মানেই এক গভীর আবেগ আর সীমাহীন ভালোবাসার নাম যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে বিশ্বকাপের আগমনের মধ্য দিয়ে। গিলবার্তো সিলভার মতো বিশ্বখ্যাত কিংবদন্তি তারকার উপস্থিতি এদেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য অনেক বড় ধরণের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ফিফা ও আয়োজক দেশগুলোর এই মহৎ উদ্যোগ বাংলাদেশের মতো ফুটবল পাগল দেশগুলোতে ফুটবলের উন্মাদনা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সোনালি স্বপ্নের এই পরশ বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে অনেক দীর্ঘকাল এক আনন্দদায়ক সুখস্মৃতি হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। এই সফরটি দেশের ক্রীড়া পর্যটন ও ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।