উখিয়া সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে জেলে গুরুতর আহত, প্রতিবাদে উত্তাল জনপদ
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরকান আর্মি (এএ) এবং কয়েকটি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠনের মধ্যেকার নিরন্তর সংঘর্ষের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। টানা কয়েক দিনের সংঘাতের পর সোমবার সকালে উখিয়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ফের ভয়াবহ স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। আকস্মিক এই বিস্ফোরণে সীমান্তবর্তী জনপদে নতুন করে ভীতির সঞ্চার হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সীমান্তে মাইন আতঙ্ক: রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শিকার
মাইন বিস্ফোরণের এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে উখিয়ার উনচিপ্রাং সীমান্তসংলগ্ন শাহজাহানের দ্বীপ এলাকায়। এই ঘটনায় হানিফ (২২) নামের একজন স্থানীয় জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা ফজল আহমদের ছেলে এবং জীবিকার তাগিদে সীমান্তে গিয়েছিলেন। বিস্ফোরণের পর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হানিফকে উদ্ধার করেন এবং দুপুরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ও চোরাগোপ্তা বিস্ফোরণে সীমান্তবর্তী জেলে এবং সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।
গুলির ক্ষত ও ক্ষতিপূরণের দাবি: তেচ্ছি ব্রিজে জনসমাবেশ
এদিকে, কেবল মাইন বিস্ফোরণ নয়; সীমান্ত এলাকায় চলমান সংঘর্ষের সময় বিদ্রোহীদের ছোড়া গুলিতে সম্প্রতি লম্বাবিল এলাকার শিশু হুজাইফা আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই সহিংসতার প্রতিবাদ এবং আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় লম্বাবিল তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
মানববন্ধনে বক্তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নির্বিচার সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জুনাইদ আলী চৌধুরী, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম, স্থানীয় বাসিন্দা শাহ Alam এবং গুলিবিদ্ধ শিশু আফনানের বাবা জসিম উদ্দিন। বক্তারা বলেন, সীমান্তের ওপারের সংঘাতের বলি হচ্ছে এপারের নিরীহ মানুষ, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
স্থানীয়রা অবিলম্বে সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য এবং আহতদের সুরক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয়ভার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। ‘আর কোনো রক্তপাত চাই না, চাই নিরাপদ জীবন’—এমন বার্তাই উঠে আসে বক্তাদের কণ্ঠে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।