সর্বশেষ
Loading breaking news...

জেনে নিন ঠিক যে কারণে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা কবুল হয় না

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

সর্বশক্তিমান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা বা দোয়া ইবাদতের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বাসীরা মনে করেন, প্রার্থনার মাধ্যমে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে এক গভীর আত্মিক সংযোগ স্থাপিত হয়। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রার্থনা শোনেন এবং সাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পবিত্র কোরআনে দিয়েছেন। তবে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট আচরণ ও ভুলের কারণে এই প্রার্থনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। হাদিস ও কোরআনের আলোকে এমন পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে যা দোয়া কবুল না হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখে।

হারাম উপার্জন ও অমনোযোগিতা

ইসলাম ধর্মে হালাল বা বৈধ জীবিকার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, যার খাদ্য, পানীয় এবং বস্ত্র হারাম উপার্জন দ্বারা অর্জিত, তার দোয়া কবুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন মানুষ নিজের "খাদ্য পবিত্র করে", যাতে দোয়া কবুল হয়। এর পাশাপাশি প্রার্থনার সময় পূর্ণ মনোযোগ থাকা একটি অত্যন্ত আবশ্যকীয় শর্ত। হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ অমনোযোগী এবং উদাসীন মনের কোনো প্রার্থনা গ্রহণ করেন না।

সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা

ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনকেও ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবী করিম (সা.) সতর্ক করেছেন যে, যদি কোনো সমাজ সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় প্রতিরোধে বিরত থাকে তবে দোয়া কবুল হবে না। একইভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা একটি অত্যন্ত গুরুতর ও জঘন্য পাপ। হাদিসে বলা হয়েছে, "আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর" দোয়া আল্লাহর দরবারে পৌঁছায় না। এই পাপের শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই ভোগ করতে হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।

অধৈর্য ও হতাশার প্রভাব

দোয়ার পর আল্লাহর প্রতি হতাশ বা অধৈর্য হওয়া একটি বড় ধরণের ভুল হিসেবে গণ্য হয়। রাসুল (সা.) শিখিয়েছেন, যারা তাড়াহুড়ো করে ফল না পেয়ে হতাশ হয়ে যায় তাদের দোয়া গৃহীত হয় না। বরং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের সঙ্গে প্রার্থনার সুফলের জন্য অপেক্ষা করাই মুমিনের কাজ। প্রার্থনার ফলাফলের জন্য অস্থিরতা প্রদর্শন করা ইবাদতের মূল চেতনার পরিপন্থী। মুমিন বান্দার উচিত আল্লাহর ফয়সালার ওপর সবসময় "সন্তুষ্ট থাকা"

সঠিক উপায়ে প্রার্থনা কবুল

প্রার্থনা কবুলের জন্য উল্লিখিত এই পাঁচটি বিষয় বর্জন করা প্রতিটি মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব। জীবনযাত্রাকে স্বচ্ছ ও পবিত্র রাখা এবং আত্মীয়তার বন্ধন মজবুত রাখা এর প্রাথমিক ধাপ। সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন এবং একাগ্রচিত্তে প্রার্থনা করলে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ সহজ হয়। হতাশা ঝেড়ে ফেলে ধৈর্যশীল হওয়ার মাধ্যমেই প্রার্থনার পূর্ণ সুফল অর্জন করা সম্ভব। সঠিক নিয়ম ও "শুদ্ধ অন্তরে" করা দোয়াই কেবল আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।

আরও পড়ুন