বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে: বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ইতিবাচক ধারা ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভ বেড়ে ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ে সুবাতাস বইতে থাকায় রিজার্ভের এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়।
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড
গত কয়েক মাস ধরে প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সরকারের ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা এবং ডলারের বিনিময় হার বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করায় হুন্ডির চেয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন প্রবাসীরা। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলারের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের আস্থাই এই সাফল্যের মূল কারণ।
রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি
তৈরি পোশাক খাতসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের আয়ও গত বছরের শেষ প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্ববাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বাজার তৈরির ফলে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমদানি ব্যয় কিছুটা কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
আইএমএফের ঋণের কিস্তি
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের আরেকটি কিস্তি ছাড় হওয়ায় সেটিও রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর যে চাপ ছিল তা অনেকটাই কমে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রিজার্ভের এই স্থিতিশীলতা ডলারের বিপরীতে টাকার মান ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভবিষ্যৎ অর্থনীতির পূর্বাভাস
রিজার্ভ বৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ২০২৬ সালটি অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হতে পারে। তবে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি প্রবাহ সচল রাখার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও জোর দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, তারা মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।