সাবেক গভর্নরের রিসোর্টের কারণে বিপাকে নূরজাহান বালিকা বিদ্যালয়
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ঐতিহ্যবাহী নূরজাহান বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এখন এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে। এক সময়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর কোলাহলে মুখরিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ আজ চরমভাবে বিঘ্নিত। বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বিলাসবহুল ‘ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট ও স্পা সেন্টার’-এর কারণে ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
নিরাপত্তা ও পরিবেশের অবক্ষয়
অভিযোগ উঠেছে, এই রিসোর্ট পরিচালনার জন্য বালিকা বিদ্যালয়ের মূল প্রবেশপথ এবং করিডোর ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র আশি জনে দাঁড়িয়েছে। স্কুলের কিশোরী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই পথে রিসোর্টে আসা বহিরাগতদের অবাধ আনাগোনা স্থানীয় সমাজে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁদের সন্তানদের স্কুল থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
নিয়ম ভাঙার মহোৎসবে মেতেছে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, ২০২২ সালে তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার পৃথক গেট নির্মাণের নির্দেশ দিলেও রিসোর্ট মালিক ও সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর তা অগ্রাহ্য করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মে মাসে হাইকোর্ট পৃথক প্রবেশপথ নির্মাণের নির্দেশ দিলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। আদালতের নির্দেশকে এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোয় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই রিসোর্টের অভ্যন্তরে প্রায়ই বিদেশি মদের আসর ও ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়। শিক্ষাঙ্গনের সন্নিকটে এমন অসামাজিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় কিশোরীদের মনস্তত্ত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে এবং প্রধান শিক্ষকের সরকারি বাসভবনটিও এখন রিসোর্টের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আক্ষেপ করে জানান, বাউন্ডারি নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে। বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানিয়েছেন যে, তিনি অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, অবিলম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পৃথক গেট নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হোক।