ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় তুচ্ছ এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই নির্মম সংঘর্ষে ধরমন্ডল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মিয়া প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার বিকেলে ধরমন্ডল গ্রামে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় যা মুহূর্তেই পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত জিতু মিয়া ওই গ্রামের আলাই মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন।
আধিপত্য বিস্তারের দীর্ঘদিনের বিদ্বেষ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে ধরমন্ডল গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জিতু মিয়ার গোষ্ঠী এবং রমজান মিয়ার গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। এই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই বিদ্বেষ মাঝেমধ্যেই সহিংস রূপ ধারণ করত। ইতিপূর্বেও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এই দুই গোষ্ঠী একাধিকবার মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। গ্রামটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চলা এই লড়াইকে স্থানীয়রা "দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব" হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই মর্মান্তিক পরিণতি মূলত সেই দীর্ঘদিনের বিরোধেরই ফল যা মেটানোর কোনো লক্ষণ ছিল না।
বিয়েবাড়িতে বচসা ও অস্ত্রের মহড়া
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী সোমবার বিকেলে গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিয়েবাড়িতে জিতু মিয়ার উপস্থিতি নিয়ে রমজান মিয়ার গোষ্ঠীর কয়েকজন লোক আপত্তি তোলেন। এই তুচ্ছ আপত্তি থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাদানুবাদ এবং পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই দুই পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আনন্দঘন বিয়ের অনুষ্ঠানটি নিমিষেই এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু
সংঘর্ষ চলাকালীন প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জিতু মিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন। স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী জেলা হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জিতু মিয়ার মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন ও সমর্থকদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে। গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষ এখন এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।
পুলিশ মোতায়েন ও তদন্ত শুরু
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) Shahinur Islam ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে পূর্ব শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি আরও জানান যে নিহতের মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে। এলাকায় নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।