জুলাই বিপ্লবের প্রশংসা ও গণতন্ত্রের উত্তরণ ড্যান মজিনার
দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র একটি অদৃশ্য কারাগারে বন্দি ছিল, যেখানে সবকিছু পরিচালিত হতো এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থায়। তবে সেই অন্ধকার সময় কেটে গেছে। এখন জনগণের সামনে সুযোগ এসেছে নিজেদের ভাগ্য গড়ার, নিজেদের নেতা বেছে নেওয়ার। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এমনই গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আহ্বান জানিয়েছেন, কোনো ধরনের প্রলোভন বা ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার না করে জনগণ যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।
জুলাই বিপ্লবের নায়ক
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসংলগ্ন ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় গত ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড্যান মজিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যেসব কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার ডালি মেলে ধরেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, তার পুরো কৃতিত্ব জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী শক্তিগুলোর। এই অভ্যুত্থান না ঘটলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।’ তিনি কথা দিয়েছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই যাত্রায় তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবেন।
নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভার্জিনিয়ার স্টেট সিনেটর সাদ্দাম সেলিম। জন্মভূমির প্রতি আজন্ম টান অনুভব করা এই রাজনীতিবিদ জানালেন, তিনি সর্বদা বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।’ সাদ্দাম সেলিম উল্লেখ করেন যে, তিনি খোদ কংগ্রেশনাল কমিটিতে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন, ড. ইউনূস সরকারের বিভিন্ন সাফল্য এবং আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, আগামীতে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখান থেকে উঠে আসা সরকার জনগণের কণ্ঠস্বরকে সম্মান জানাবে।
ঐক্যের ডাক
ইউএস বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং হাসান চৌধুরীর সঞ্চালনায় এই সভায় বক্তারা একমত হন যে, বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকাল পার করছে এবং এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশ ও প্রবাসের সবাইকে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এই অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
অগ্রগতির পথে
বক্তাদের মধ্যে ঐকমত্য ছিল যে, জুলাই বিপ্লব একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র। গণতন্ত্রের সুফল ধরে রাখতে এবং অব্যাহত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অঙ্গীকার অপরিহার্য। রাষ্ট্রদূত মজিনার মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থনকেই প্রতিফলিত করে।