সর্বশেষ
Loading breaking news...

ফ্রান্স অভূতপূর্ব জনসংখ্যাগত পতনের মুখোমুখি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ফ্রান্স এক অভূতপূর্ব এবং উদ্বেগজনক জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সাক্ষী হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার এক বছরে মৃত্যুর সংখ্যা জন্মের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা INSEE-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। মূলত কোভিড-১৯ মহামারির পর জন্মহারের পতনের কারণেই এমনটা হয়েছে।

ভবিষ্যতের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

পরিস্থিতির গভীরতা বোঝা যায় প্রজনন হারের দিকে তাকালে। INSEE-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে একজন নারীর গড় সন্তান সংখ্যা নেমে এসেছে ১.৫৬-এ, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বনিম্ন। এই হার নীতিপ্রণেতাদের প্রত্যাশিত ১.৮-এর চেয়ে অনেক কম, যা দেশটির পেনশন ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সংকট প্যারিসকেও গ্রাস করছে

ঐতিহাসিকভাবে ফ্রান্স ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় একটি শক্তিশালী জনসংখ্যাগত কাঠামো বজায় রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জন্মহার হ্রাসের সম্মিলিত প্রভাবে প্যারিসও ইউরোপীয় জনতাত্ত্বিক সংকটের শিকার হচ্ছে। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি সামাজিক পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার উপর চাপ সৃষ্টি করছে।

দীর্ঘায়ু এবং অস্তিত্বের লড়াই

জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তর ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে। তাদের মতে, করদাতার সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বয়স্কদের পেছনে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে রাষ্ট্রের কোষাগারে বড়সড় টান পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদ ফিলিপ ক্রেভেলের মতে, ১৯৬০-এর দশকের পর জন্ম নেওয়া বিশাল প্রজন্মের অবসরে যাওয়ায় দক্ষ শ্রমিকের অভাব দেখা দিতে পারে, যা সামগ্রিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বয়স্ক জনসংখ্যা এবং স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ

প্রাকৃতিক বৃদ্ধির হার নেতিবাচক হলেও, অভিবাসনের কল্যাণে ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার নিট অভিবাসনের ফলে দেশটির মোট জনসংখ্যা এখন প্রায় ৬ কোটি ৯১ লক্ষ। ফরাসি নাগরিকদের গড় আয়ু নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে, তবে এই দীর্ঘায়ুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বার্ধক্যজনিত চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি, যা স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন