অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘নাক গলানোর’ অভিযোগ: প্যারিসে জরুরি তলব মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে
প্যারিসের কূটনৈতিক মহলে উত্তাপ তুঙ্গে। এক ফরাসি অ্যাক্টিভিস্টের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মার্কিন দূতাবাসের বিতর্কিত মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স। বিষয়টি এতটাই গড়িয়েছে যে, প্যারিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল বারো। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে সরাসরি ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দূতাবাসের মন্তব্যে তোলপাড়
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ফ্রান্সে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাসবিরোধী ব্যুরোর একটি পোস্ট শেয়ার করে। সেখানে দাবি করা হয়, ২৩ বছর বয়সী ফরাসি অ্যাক্টিভিস্ট কুয়েন্টিন দেরাঙ্ক ‘উগ্র বামপন্থীদের’ হাতে নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘বামপন্থী সহিংসতার ফল’ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের লিঁও শহরে এক সংঘর্ষে মাথায় গুরুতর আঘাত পান কট্টর ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট কুয়েন্টিন দেরাঙ্ক। দুদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত পুলিশ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফরাসি সরকার বিষয়টিকে তাদের জাতীয় সম্প্রদায়ের একান্ত নিজস্ব বিচারবিভাগীয় বিষয় বলে দাবি করেছে।
রাষ্ট্রদূত কুশনার: বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু
মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারের ফরাসি কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও তাকে একবার তলব করা হয়েছিল। সে সময় ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি—এমন অভিযোগ তুলে তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এবার ফের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্যের জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মোড় নিল।
প্যারিস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দূতাবাসের এমন মন্তব্য তারা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বন্ধুপ্রতিম দেশের অভ্যন্তরীণ বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। এখন দেখার বিষয়, রাষ্ট্রদূতকে তলব করার পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে এবং দুই দেশের সম্পর্কে এর প্রভাব কতটা গভীর হয়।