ফ্রান্সের এমপি সুমাইয়া বোরোয়াহার মুখে ইসলামের সোনালী ঐতিহ্য ও ঐক্যের আহ্বান
ফ্রান্সের সেইন-সাঁ-দোনী অঞ্চলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হলেন প্রবাসী বাঙালিরা। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে উঠে এলো ইসলামের শাশ্বত আদর্শ ও ভ্রাতৃত্ববোধের কথা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের আইনসভার প্রভাবশালী সদস্য সুমাইয়া বোরোয়াহা, যার বক্তব্যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে মুসলিম সভ্যতার হারানো ঐতিহ্যের কথা।
হারানো গৌরবের সন্ধানে
ফ্রান্সের সেইন-সাঁ-দোনী আসন-৪ থেকে নির্বাচিত সাংসদ এবং সংসদের সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক কমিটির সদস্য সুমাইয়া বোরোয়াহা তাঁর বক্তব্যে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামের শাশ্বত আদর্শকে ধারণ করেই একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব। ইতিহাসের পাতা উল্টে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একটা সময় ছিল যখন মুসলমানরা ধর্মীয় অনুশীলন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায় বিশ্বমঞ্চে শীর্ষে অবস্থান করত। সেই সোনালী অতীত ও গৌরবময় অধ্যায়কে ফিরিয়ে আনতে হলে আজ আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি পরবর্তী প্রজন্মকে ইসলামের সঠিক ইতিহাস ও আদর্শিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার আহ্বান জানান, যাতে তারা সচেতন নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে।
সম্প্রীতির অনন্য নজির
সাংসদ সুমাইয়া আরও উল্লেখ করেন, ফ্রান্সের মুসলিম নাগরিকরা ফরাসি জাতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের অবদান এই সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি সম্মান, সংলাপ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্ন ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, স্তা কম্যুন-এর মেয়র আজেদিন তাইবি বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই আয়োজনটি ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এমন মিলনমেলা ফরাসি সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
তারার মেলায় প্যারিসের সন্ধ্যা
বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামি সেন্টারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। এতে গির্জার মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা বিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধি উইলহেম কোয়ান্দ্র এবং এসডিআরএম-৯৩ এর সহ-প্রতিনিধি সোর এলোদি ব্লঁদেল বক্তব্য রাখেন, যা আন্তঃধর্মীয় সংলাপের পথ সুগম করে।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা পেশ করেন মসজিদের ইমাম ও মাদরাসার শিক্ষক আহমাদুল ইসলাম। প্যারিসের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ যেন এদিন ইফতারের আনন্দ ভাগ করে নেয়।