তীব্র গ্যাস সংকটে বন্ধ দেশের পাঁচটি মেগা সার কারখানার উৎপাদন
দেশের কৃষি খাতের জন্য এক অশনি সংকেত বয়ে এনেছে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট। তীব্র গ্যাস সংকটের কবলে পড়ে দেশের সর্ববৃহৎ ও পরিবেশবান্ধব ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসিসহ মোট পাঁচটি সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি নির্দেশনায় গত বুধবার বিকেল থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ছেদ পড়ে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও কৃষিখাতে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
নেপথ্যের কাহিনি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
হঠাৎ কেন এই উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত? সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) গ্যাস রেশনিংয়ের কঠোর পথ বেছে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঘোড়াশাল-পলাশ ছাড়াও একে একে থমকে গেছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এবং বেসরকারি খাতের কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানির (কাফকো) চাকা।
কারখানা সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, এই পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানা পূর্ণ ক্ষমতায় সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। বিশেষ করে অত্যাধুনিক ঘোড়াশাল-পলাশ কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য ৭১ থেকে ৭২ পিএসআই গ্যাস চাপের প্রয়োজন থাকলেও অন্তত ৫২ থেকে ৫৩ পিএসআই চাপ পেলেও কোনোমতে কাজ চালানো সম্ভব হতো। কিন্তু গত বুধবার থেকে সেই সরবরাহও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে।
মজুদ সারের স্বস্তি বনাম অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
ঘোড়াশাল-পলাশ কারখানার গুদামে বর্তমানে ৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুদ থাকলেও কারখানাটি পুনরায় কবে উৎপাদনে ফিরবে তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম জানিয়েছেন, সার উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জোগান না পাওয়া পর্যন্ত উৎপাদন শুরু করা অসম্ভব।
কবে নাগাদ এই গ্যাস সংকট কাটবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছেও নেই কোনো সদুত্তর। ফলে কৃষিপ্রধান এই দেশে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এখন এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। মজুদ ফুরিয়ে গেলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে শঙ্কিত সংশ্লিষ্টরা।