স্বস্তির খবর: আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম কমল
সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আজ থেকে কার্যকর হলো জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। নতুন দর অনুযায়ী, লিটার প্রতি ডিজেল ও কেরোসিনে ৩ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেনে ৪ টাকা কমানো হয়েছে।
পরিবহন ও কৃষি খাতে প্রভাব
জ্বালানি তেলের এই মূল্যহ্রাসের ফলে পরিবহন ব্যয় ও কৃষি উৎপাদন খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিজেলের দাম কমায় সেচ মৌসুমে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। বাস ও ট্রাক মালিক সমিতির নেতারাও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, জ্বালানির দাম কমলে ভাড়া কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, যা নিত্যপণ্যের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি
সরকার গত বছর থেকে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বা 'অটোমেটেড প্রাইসিং ফর্মুলা' চালু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী থাকায় দেশের বাজারেও তার প্রতিফলন ঘটল। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদ্ধতি চালু থাকায় কোনো ভর্তুকি ছাড়াই স্বচ্ছভাবে দাম নির্ধারণ সম্ভব হচ্ছে এবং জনগণ এর সুফল পাচ্ছে।
ভোক্তা অধিকারের প্রতিক্রিয়া
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) দাম কমানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, বিশ্ববাজারে দাম আরও অনেক কমেছে, সেই তুলনায় দেশে কমানো হয়েছে সামান্যই। তারা তেলের দাম আরও কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে, তেলের দাম কমার সুফল যেন যাত্রীরা পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর তদারকি দাবি করেন।
পাম্পগুলোতে ভিড়
দাম কমার খবরে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গাড়ি ও বাইকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। চালকরা বলছেন, লিটার প্রতি ৪ টাকা কমলেও তা মাস শেষে একটি বড় সাশ্রয়। তবে তারা মাপে কম দেওয়া এবং তেলের মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন। বিপিসি জানিয়েছে, তেলের গুণগত মান বজায় রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।