সর্বশেষ
Loading breaking news...

আইনজীবী আলিফ হত্যায় পলাতক আসামি গণেশ লালদীঘি থেকে র‍্যাবের খাঁচায়

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় এক বড়সড় সাফল্যের দেখা পেল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আদালতের পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দীর্ঘ দিন পালিয়ে থাকা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি গণেশ ওরফে গনেজ অবশেষে ধরা পড়েছে র‍্যাবের জালে। শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর লালদীঘির পাড় সংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলো।

তৎপর র‍্যাব: লালদীঘির পাড় থেকে যেভাবে ধরা পড়ল গণেশ

র‍্যাব-৭-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে আসামি গণেশ নগরীর লালদীঘি এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। গ্রেপ্তারকৃত ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ নগরীর কোতোয়ালি থানার সেবক কলোনির বাসিন্দা। এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর বান্দরবানের নীলাচল যৌথ খামার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার আরেক আসামি সুকান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। র‍্যাবের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানানো হয়েছে, বাকি ১৬ জন পলাতক আসামিকে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিচারের প্রতীক্ষা

আইনজীবী আলিফ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুরো দেশ জুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা গত ১ জুলাই আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন, সেখানে ৩৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রক্তাক্ত ২৬ নভেম্বর: সেই বিভীষিকাময় আদালত চত্বর

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৬ নভেম্বর, যখন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন নামঞ্জুর হয়। সেই আদেশকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি করে তার সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করলে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই গোলযোগের মধ্যেই রঙ্গম কনভেনশন হলের সামনের সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার চেয়ে পরবর্তীতে ২৯ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন নিহতের পিতা জামাল উদ্দিন।

ন্যায়বিচারের পথে অবিচল যাত্রা

আইনজীবীর এমন নির্মম মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়েছিল গোটা জাতি, বিশেষ করে বিচারালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলে। গণেশের গ্রেপ্তারের সংবাদে নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রশাসনের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন যে, পলাতক বাকি আসামিদেরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের মুখোমুখি করা হবে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন