সর্বশেষ
Loading breaking news...

গ্যাস-সংকটে ধুঁকছে ঢাকাবাসী: রান্নাঘর থেকে পরিবহন সর্বত্রই তীব্র হাহাকার

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্যাসের সংকট, যা এখন ঢাকাবাসীর জনজীবনে এক মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রান্নাঘরের চুলা থেকে শুরু করে রাজপথের পরিবহন—সর্বত্রই যেন এক অদৃশ্য অশনি সংকেত। একদিকে আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাসের অভাবে বৈদ্যুতিক চুলায় ঝুঁকছেন, অন্যদিকে পরিবহনে এলপিজি সংকটে চালকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। সব মিলিয়ে এক চরম অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে নগরবাসী।

বিকল্পের সন্ধানে বাড়ছে ব্যয়

তিতাসের লাইনে গ্যাস নেই, তাই বাধ্য হয়েই মধ্যবিত্তের ভরসা এখন রাইস কুকার আর ইন্ডাকশন চুলা। মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়ার বাসিন্দা শফিকুর রহমানের মতো হাজারো মানুষ গ্যাসের বিল দিয়েও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা। জীবন বাঁচাতে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিনলেও মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিলের অংক দেখে চোখ কপালে উঠছে অনেকের। বিক্রেতাদের মতে, এই বিকল্প ব্যবস্থায় প্রতি মাসে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যা নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।

পরিবহনে স্থবিরতা ও হতাশা

সংকটের আঁচ লেগেছে পরিবহন খাতেও। এলপিজি ও সিএনজির তীব্র ঘাটতিতে অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে এখন শুধুই দীর্ঘ অপেক্ষা আর হতাশার চিত্র। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ওনারস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সরবরাহের অভাবে রাজধানীর অর্ধেক স্টেশনই কার্যত অচল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস, ফলে বাধ্য হয়েই চালকরা ঝুঁকছেন ব্যয়বহুল অকটেন বা পেট্রোলের দিকে। এতে করে পরিবহন খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি যাত্রীদের পকেটও কাটা যাচ্ছে সমানতালে।

রেস্তোরাঁয় ভিনদেশি উত্তাপ

গ্যাসের এই আকাল থেকে রেহাই পাচ্ছে না হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোও। সিলিন্ডার সংকটের দোহাই দিয়ে একশ্রেণীয় অসাধু ব্যবসায়ী বাড়িয়ে দিয়েছেন খাবারের দাম। পল্লবীর মতো এলাকাগুলোতে ছোটখাটো খাবারের দোকানগুলোতেও এখন চড়া দামের উত্তাপ। ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা পরিস্থিতি সামাল দিতে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিলেও, সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি কমার কোনো লক্ষণ নেই।

সমাধানের আশায় চাতক দৃষ্টি

এই চতুর্মুখী সংকট কবে কাটবে, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে। জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা যদি দ্রুত নিরসন না করা হয়, তবে সামনের দিনগুলোতে জনদুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আপাতত চড়া দামের বিকল্প জ্বালানি আর দীর্ঘশ্বাসই যেন ঢাকাবাসীর নিত্যসঙ্গী।

আরও পড়ুন