গাজায় প্রাণহানি ৭১ হাজার ছাড়াল, ১০ হাজার শিশু পুরোপুরি এতিম হলো
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় চরম রূপ ধারণ করেছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা এখন ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যা এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৪১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১ লাখ ৭১ হাজার ৩১৮ জন। সোমবার প্রকাশিত এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এই মানবিক সংকট গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপ ও অবকাঠামো বিলীন
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনজনিত সাম্প্রতিক ঘটনাতেই ৪৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৪০ জন। যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, না হয় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ বোমা বর্ষণের কারণে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এই পরিস্থিতি গাজাকে কার্যত একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
এতিম সংকট ও পুনর্গঠন
এই সংঘাত শুধু অবকাঠামো ধ্বংস করেনি, জন্ম দিয়েছে এক অভূতপূর্ব সামাজিক সংকটের, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, গাজায় ৩৯ হাজারের বেশি শিশু তাদের এক বা উভয় অভিভাবককে হারিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার শিশু "সম্পূর্ণভাবে এতিম হয়ে গেছে"। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এতিম সংকট হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১৮ হাজারের বেশি গুরুতর আহত রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে সরানো প্রয়োজন।
পুনর্গঠন ও ভবিষ্যতের পথ
এদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাকে পুনরায় গড়ে তোলার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার) প্রয়োজন। সংঘাত নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। প্রথম ধাপের শর্ত ছিল জিম্মি মুক্তি, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং মানবিক ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করা।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ
যুদ্ধবিরতির পরবর্তী বা দ্বিতীয় ধাপে গাজা থেকে পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন এবং একটি প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ অত্যাবশ্যক। সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।