সর্বশেষ
Loading breaking news...

জেন-জির নতুন ডিজিটাল ভাষা ও সংকেতে বদলে যাচ্ছে যোগাযোগের চিরাচরিত ব্যাকরণ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ চিরাচরিত ব্যাকরণের গণ্ডি পেরিয়ে এক নিজস্ব ডিজিটাল শব্দভাণ্ডার গড়ে তুলেছে। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই ভাষা কেবল শব্দের বৈচিত্র্য নয়, বরং তাদের জীবনদর্শন ও অনুভূতির স্বতন্ত্র বহিঃপ্রকাশ। ফেসবুক কিংবা টিকটকের দুনিয়ায় এই প্রজন্মের কথা বলার ধরনে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা বড়দের কাছে অনেকটা ভিনগ্রহের ভাষার মতো মনে হতে পারে। তবে সময়ের অভাবে দ্রুত ভাব বিনিময়ের তাগিদ থেকেই এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ শব্দগুলোর জন্ম হয়েছে।

ডিজিটাল দুনিয়ার রহস্যময় সংকেত

অনলাইন চ্যাটিং বা ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে জায়গার সীমাবদ্ধতা কাটাতে তরুণরা বেছে নিয়েছে ‘জেন-জি স্ল্যাং’ নামের এক জাদুকরী হাতিয়ার। নিজেদের অর্জন বা সাফল্য জাহির করাকে তারা অবলীলায় বলছে ‘ফ্লেক্স’ এবং অসাধারণ কোনো কাজের স্বীকৃতি দিচ্ছে ‘স্লে’ শব্দের মাধ্যমে। কোনো পরিস্থিতির মেজাজ বোঝাতে ‘ভাইব’ শব্দটি এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। "দ্রুত ও অর্থপূর্ণ যোগাযোগ নিশ্চিত করতেই এই প্রজন্মের তরুণেরা নিজেদের এক আলাদা ভাষাশৈলী তৈরি করে নিয়েছে।"

শব্দের আড়ালে লুকানো বার্তা

সত্য-মিথ্যার যাচাইয়েও এই প্রজন্ম ব্যবহার করছে অদ্ভুত সব শব্দ, যেমন মিথ্যে কথা থামিয়ে দিতে বলছে ‘ক্যাপ’ আর সত্যের স্বপক্ষে বলছে ‘নো ক্যাপ’। কারো আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তারা সংক্ষেপে তাকে ‘সাস’ বলে অভিহিত করছে, যা তাদের সতর্কতার এক অনন্য প্রকাশ। ব্যক্তিত্বের প্রভাব বোঝাতে ‘অরা’ বা পোশাকী আভিজাত্যকে ‘ড্রিপ’ নামে ডাকার চল এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রিয়জনকে ‘পুকি’ বা গসিপকে ‘টি’ (Tea) বলার মাধ্যমে তারা আবেগের এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করছে।

প্রজন্মের মেলবন্ধনে নতুন সেতুবন্ধন

মোহনীয় ক্ষমতাকে ‘রিজ’ বা সেরা কাউকে ‘গোট’ (GOAT) ডাকার এই প্রবণতা কেবল একটি অস্থায়ী ফ্যাশন নয়, বরং এটি বর্তমান ডিজিটাল যুগের এক অনিবার্য বাস্তবচিত্র। জেন-জিদের চিন্তা ও আবেগ সঠিকভাবে বুঝতে হলে তাদের এই বিচিত্র ভাষার ব্যাকরণ জানা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এই শব্দগুলোর অর্থ জানা জরুরি। "প্রজন্মের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনতে এই নতুন ডিজিটাল অভিধান এক অপরিহার্য সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।"

আগামীর যোগাযোগ ব্যবস্থার রূপরেখা

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই শব্দগুলো আয়ত্ত করতে পারলে তরুণ প্রজন্মের মনের গহীনে প্রবেশ করা অনেক বেশি সহজ হয়ে যাবে। টিকটক থেকে উঠে আসা ‘স্কিবিডি’র মতো শব্দগুলো হয়তো অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু ইন্টারনেটের ট্রেন্ড অনুযায়ী এগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হচ্ছে। জেন-জির এই ভাষা তাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি আগামী দিনের যোগাযোগ ব্যবস্থার এক নতুন রূপরেখা অঙ্কন করছে। বড়দের উচিত এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে তরুণদের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করা।

আরও পড়ুন