দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়ে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ২,৬২৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে এই মূল্যবান ধাতুটি এখন এক নতুন ঐতিহাসিক দামে পৌঁছেছে যা সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বুধবার রাতে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় এবং তা আজ বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হচ্ছে।
স্থানীয় বাজারের অস্থিতিশীলতা
স্বর্ণের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফনের পেছনে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা খাঁটি সোনার মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ি করেছে বাজুস। সংস্থাটি জানিয়েছে যে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনস্বার্থে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা ছিল একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের জন্য ক্রেতাদের গুণতে হবে "২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা"। বাজুস কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে বাজারে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের খুচরা বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।
স্বর্ণের বিভিন্ন মান
শুধু ২২ ক্যারেটই নয় বরং অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও সমানতালে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে এই দফায়। নতুন দর অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা। এছাড়াও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরিপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা। এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির ফলে গয়না তৈরিতে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বড় ধরণের হিমশিম খাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রুপার বাজারে স্বস্তি
স্বর্ণের বাজারে যখন উত্তাপের শিখা বইছে তখন রুপার বাজারে এক ধরণের স্বস্তিদায়ক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। বাজুস জানিয়েছে যে ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে রুপার দাম আপাতত অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায় যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায় স্থির রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাবের পূর্বাভাস
নতুন বছরে স্বর্ণের এই বিশাল উল্লম্ফন দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন যে স্বর্ণের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় উৎসব-পার্বণের কেনাকাটায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। বাজুস অবশ্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে মূল্য কমানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এই মুহূর্তের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যবসায়ীদের সতর্কভাবে লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে বিলাসবহুল পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধি বাজারের গতিশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।