দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড; ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা
দেশের বাজারে আবারও এক লাফে বাড়ল স্বর্ণের দাম, যা ভেঙে দিয়েছে অতীতের সব রেকর্ড। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস কর্তৃপক্ষ।
ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হবে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বিক্রি হবে। চলতি বছরে এটি স্বর্ণের দামের ৩২তম সমন্বয়, যার মধ্যে ২০ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে।
স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী মূল্যের সঙ্গে যোগ হচ্ছে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৬ শতাংশ মজুরি, যা গহনার দামকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। একটি সাধারণ মানের গহনা কিনতেও এখন মানুষকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দামের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এই মূল্যবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।
তবে স্বর্ণের বাজারে আগুন থাকলেও রুপার দামে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। বাজুস রুপার দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৭০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ক্রেতারা স্বর্ণের বদলে এখন রুপার গহনার দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করছেন অনেক ব্যবসায়ী।
বাজুসের এই নতুন সিদ্ধান্তে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দাম বাড়লে বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। অন্যদিকে, যারা বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কিনে রেখেছিলেন, তারা লাভবান হচ্ছেন। তবে বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য যারা স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।