রেকর্ড ভেঙে আকাশচুম্বী স্বর্ণের দাম: ভরিপ্রতি বাড়ল ২ হাজার টাকারও বেশি
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এই মূল্যবান ধাতুর দাম এবার এক ধাক্কায় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।
সোনার বাজারে হঠাৎ উত্তাপের নেপথ্যে
স্বর্ণের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে বাজুস। সংস্থাটির মতে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের মূল্যে এই সমন্বয় করতে হয়েছে। ফলে বর্তমানে সারাদেশে ক্রেতাদের এই বাড়তি দামেই স্বর্ণ কিনতে হচ্ছে। দেশের প্রতিটি গয়নার দোকানে এই নতুন মূল্যতালিকা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর ওঠানামা এবং স্থানীয় যোগানের সংকটের কারণেই মূলত এই দাম বৃদ্ধি। বিয়ে ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের মৌসুমে দামের এই ঊর্ধ্বগতি মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আবেদন থাকায় দাম বাড়লেও এর চাহিদায় খুব একটা প্রভাব পড়বে না বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের।
সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার রেকর্ড দর
নতুন করে নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দামের এই রেকর্ড উচ্চতা ক্রেতাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
বাড়তি খরচের যোগসূত্র ও রুপার স্থিতিশীলতা
তবে সাধারণ ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে যে, শুধুমাত্র স্বর্ণের এই মূল্যে গয়না কেনা সম্ভব নয়। বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যোগ করতে হবে। তবে গয়নার নকশা ও মানের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরি ভিন্ন হতে পারে।
এদিকে স্বর্ণের দাম আকাশছোঁয়া হলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি ৬ হাজার ৭০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকায় স্থির রয়েছে। রুপার দাম স্থিতিশীল থাকায় অনেক ক্রেতা স্বর্ণের বিকল্প হিসেবে রুপার গহনার দিকে ঝুঁকতে পারেন। সব মিলিয়ে স্বর্ণের এই রেকর্ড দাম দেশের অর্থনীতি ও গয়না শিল্পের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ।