স্বর্ণের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন: আড়াই লাখের গণ্ডি ছাড়াল ২২ ক্যারেট সোনা
দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আকস্মিক এই বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীরাও বিস্মিত। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়ে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রতি ভরিতে দাম বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (বিশুদ্ধ সোনা) মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকেই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্বর্ণের নতুন দর: মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে
নতুন নির্ধারিত মূল্য কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৩ টাকায়, যা মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ টাকা প্রতি ভরি। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও পিছিয়ে নেই, যার নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৯ টাকা। দামের এই উল্লম্ফন বিয়ের মৌসুমে ক্রেতাদের জন্য বড় ধাক্কা।
স্বর্ণের এই লাফানো দামের কারণে ক্রেতাদের এখন থেকে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং জুয়েলারি সমিতি কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হবে। তবে গহনার নকশা ও কারিগরি মানের ওপর ভিত্তি করে মজুরির তারতম্য হতে পারে। ফলে গহনা কেনার চূড়ান্ত খরচ আরও বাড়বে।
রুপার বাজারেও উত্তাপ
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি এখন ৭ হাজার ১৭৩ টাকায় বিক্রি হবে। ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৮২ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার মূল্য ধার্য করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। সনাতন পদ্ধতির রুপার এক ভরি এখন ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় বিক্রি হবে। মূল্যবান ধাতুর এই সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি জুয়েলারি ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি বাজারের সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করেন, তাদের জন্য এই উচ্চমূল্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজুসের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণালঙ্কার কেনাবেচায় ভাটা পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই নতুন দাম কার্যকর থাকবে।