সর্বশেষ
Loading breaking news...

নতুন পে-স্কেল স্থগিত, সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরকারি কর্মচারীদের বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল অন্তর্বর্তী সরকার। আর্থিক সংকট এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আপাতত নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। তবে এতে হতাশ হওয়ার কারণ নেই; নতুন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী ‘মহার্ঘ ভাতা’ চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ভাতার অঙ্কে কার পকেটে কত?

নতুন পে-স্কেল আপাতত আলোর মুখ না দেখলেও, সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সুরক্ষায় মহার্ঘ ভাতার হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন। অন্যদিকে, দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এই ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ শতাংশ। নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে পূর্ণাঙ্গ বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত এই নিয়মেই ভাতা প্রদান করা হবে।

নির্বাচনের আগে কেন এই পিছুটান?

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা বাস্তবিক অর্থে সম্ভব নয়। সময়ের স্বল্পতা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে এই মুহূর্তে বড় কোনো আর্থিক সংস্কারে হাত দিচ্ছে না অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনের আগে পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। মূলত, গঠিত পে-কমিশনকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত রাখতে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দীর্ঘ ৯ বছরের অপেক্ষা ও বাস্তবতা

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা ২০১৫ সালে ঘোষিত অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। নিয়মানুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে-স্কেল হওয়ার কথা থাকলেও, গত ৯ বছরে তা বাস্তবায়িত হয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপে কর্মচারীদের অনেকেই যখন দিশাহারা, তখন ২০২৩ সাল থেকে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছিল। এখন পে-কমিশনের মেয়াদ এবং আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণ মিলিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই হয়তো নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জট খুলবে।

আর্থিক বাস্তবতায় বর্তমান পদক্ষেপ

নতুন পে-স্কেল স্থগিত করার এই সিদ্ধান্ত বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ এবং নির্বাচনের আগে বড় ধরনের আর্থিক সংস্কারের ঝুঁকি এড়াতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে মহার্ঘ ভাতার হার নির্ধারণের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাটি নতুন সরকারের হাতে একটি পূর্ণাঙ্গ বেতনকাঠামোর রূপরেখা হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন