ছুটি বাতিলের খবর ভিত্তিহীন: আসল সত্য ফাঁস করল প্রেস উইং
সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ছুটি বাতিলের’ খবরকে সর্বৈব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকার। গুঞ্জন উঠেছিল যে ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার থেকে সরস্বতী পূজা, আশুরা, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও জন্মাষ্টমীর মতো ছুটিগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়েছে।
ছুটি বাতিল নয়, বরং ক্যালেন্ডারের মারপ্যাঁচ
বিভ্রান্তির আসল কারণ হলো ক্যালেন্ডারের হিসাব। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২৬ সালে সরস্বতী পূজা (২৩ জানুয়ারি), একুশে ফেব্রুয়ারি, মে দিবস, আশুরা (২৬ জুন) ও জন্মাষ্টমীর মতো দিবসগুলো পড়েছে শুক্রবার অথবা শনিবার। যেহেতু শুক্রবার ও শনিবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটির দিন, তাই এই দিবসগুলোর জন্য আলাদা করে কোনো ছুটির প্রয়োজন হয়নি। প্রজ্ঞাপনে ‘শুন্য’ দিন উল্লেখ করার অর্থ এই নয় যে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায়
প্রেস উইং জানিয়েছে, এটি কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নয়। বিগত বছরগুলোতেও যখনই কোনো সরকারি ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে, তখন সেটিকে আলাদাভাবে গণনা করা হয়নি। সরকার স্পষ্ট করেছে যে সব ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসবের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি গেজেট অনুসরণ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে একটি অসাধু চক্র এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে সরকার মনে করে। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং সকল জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে সরকার।