জাতীয় স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল সরকার
জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিমান পরিচালনা পর্ষদের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিমানের যাত্রীসেবার মান ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বহর আধুনিকায়নের উদ্যোগ
দীর্ঘদিন ধরেই বিমানের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। বোয়িংয়ের সঙ্গে এই চুক্তির আওতায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রিমলাইনারসহ বিভিন্ন মডেলের ১৪টি বিমান কেনা হবে। পর্ষদ সভায় জানানো হয়, এই বিমানগুলো যুক্ত হলে ইউরোপ ও আমেরিকার নতুন নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এটি দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ
এত বিপুল সংখ্যক বিমান কেনার আর্থিক দিক নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সহজ শর্তে ঋণ এবং বোয়িংয়ের দেওয়া বিশেষ ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই ক্রয় আদেশ অনুমোদন করা হয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই বিনিয়োগ বিমানের রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে এই ঋণের বোঝা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য এয়ারলাইন্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আধুনিক বিমানের বিকল্প নেই। নতুন এই বিমানগুলোতে যাত্রীদের জন্য থাকবে উন্নত বিনোদন ব্যবস্থা ও আরামদায়ক আসন। এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ায় পরিচালন ব্যয়ও কমে আসবে। এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আঞ্চলিক হাব হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারবে।
দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস
চুক্তি অনুযায়ী আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ধাপে ধাপে বিমানগুলো বাংলাদেশে পৌঁছাবে। বোয়িং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী বিমানগুলো কাস্টমাইজ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ করার চেষ্টা করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা, তবে তারা দক্ষ জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।