‘গ্রে’স অ্যানাটমি’ তারকা এরিক ডেনের জীবনাবসান: এএলএস-এর সাথে লড়াইয়ের সমাপ্তি
হলিউড জগতের জন্য এক শোকাবহ সংবাদ—জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘গ্রে’স অ্যানাটমি’ খ্যাত অভিনেতা এরিক ডেন আর নেই। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) নামক এক দুরারোগ্য স্নায়ুরোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তার অকাল প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লড়াকু এক জীবনের অবসান
২০২৫ সালে প্রথমবার এরিক ডেন তার অসুস্থতার কথা ভক্তদের জানান। এরপর থেকে তিনি এএলএস সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে তার স্ত্রী রেবেকা গেহার্ট এবং দুই কন্যা তার পাশেই ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তার জীবন যুদ্ধ যেন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে এবং এএলএস গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
‘ম্যাকস্টিমি’ থেকে ‘ইউফোরিয়া’র অবিস্মরণীয় যাত্রা
২০০৬ সালে ‘গ্রে’স অ্যানাটমি’ সিরিজে ড. মার্ক স্লোন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে এরিক বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পান। ভক্তদের কাছে তিনি ‘ম্যাকস্টিমি’ নামে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। এছাড়া ‘এক্স-মেন: দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’ এবং ‘মার্লে অ্যান্ড মি’-এর মতো চলচ্চিত্রেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি এইচবিও-র ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে অভিনয় করে তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মন জয় করেছিলেন।
‘গ্রে’স অ্যানাটমি’র নির্মাতা শোন্ডা রাইমস এবং তার সহশিল্পীরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। তাদের মতে, এরিক কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, বরং সেটে তিনি ছিলেন সবার অভিভাবকের মতো। অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি গত বছর একটি টিভি সিরিজে এএলএস আক্রান্ত অগ্নিনির্বাপক কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করে সমাজের সামনে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছিলেন।
এরিক ডেন ‘আই এম এএলএস’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে গবেষণার জন্য কোটি কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহে ভূমিকা রেখেছেন। তার এই মানবিক কাজ চিরকাল মানুষের মনে গেঁথে থাকবে। রুপালী পর্দার এই নক্ষত্র হারিয়ে গেলেও তার কাজ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নতুন অভিনেতাদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।