সর্বশেষ
Loading breaking news...

বিহারে কাকের রহস্যমৃত্যুতে বার্ড ফ্লু আতঙ্ক: H5N1 শনাক্ত, রাজ্যে চরম সতর্কতা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই প্রতিবেশী ভারতে নতুন করে জনস্বাস্থ্যকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে অত্যন্ত সংক্রামক বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার উপস্থিতি। এবার বিহার রাজ্য থেকে এইচ৫এন১ (H5N1) ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরই স্থানীয় প্রশাসন জুড়ে জরুরি ভিত্তিতে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জনমনে সৃষ্টি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

বিহারে ভাইরাসের হানা

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিহারের দারভাঙ্গা জেলার ভিগো এলাকায় হঠাৎ করেই বিপুল সংখ্যক কাকের রহস্যজনক মৃত্যু লক্ষ্য করা যায়। পাখির এই গণমৃত্যু স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তড়িঘড়ি মৃত পাখিদের নমুনা সংগ্রহ করে ভোপালের একটি বিশেষ পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে সেখানে পরীক্ষার ফলাফলে এইচ৫এন১ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এই ফলাফল আসতেই রাজ্যের প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ

সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পরপরই দারভাঙ্গা পৌরসভা এবং পশুপালন দপ্তর যৌথভাবে জরুরি মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠে নামিয়েছে। মৃত পাখিগুলির দেহ সুরক্ষিত উপায়ে অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সমগ্র অঞ্চলের পোলট্রি খামারগুলিতে নজরদারি বহুলাংশে জোরদার করা হয়েছে। খামারের হাঁস-মুরগির নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে ভাইরাসের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করে তা দ্রুত বন্ধ করা যায়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

জনস্বাস্থ্যের প্রতি হুমকি

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে বার্ড ফ্লু মূলত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একটি রূপ, যার মধ্যে এইচ৫এন১ প্রজাতিটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। নিপা ভাইরাসের মতোই এটিও প্রাণিজগৎ থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট হুমকি। যদিও মানুষের মধ্যে এই সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়, তবে সংক্রমিত পাখির সঙ্গে দীর্ঘসময় সংস্পর্শে এলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। তীব্র জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

সাধারণের জন্য নির্দেশিকা

এই পরিস্থিতিতে বিহার রাজ্য সরকার সাধারণ জনগণের জন্য কিছু আবশ্যিক নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো মৃত বা অসুস্থ পাখি দেখা গেলে তা স্পর্শ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অস্বাভাবিক পাখির মৃত্যু নজরে এলে অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে। এছাড়াও পোলট্রি খামার ও বাজার এলাকায় সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত সংক্রমণ রোধ করা এবং রাজ্যের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা।

আরও পড়ুন