একুশের প্রথম প্রহরে হবিগঞ্জে বিনম্র শ্রদ্ধা, শহীদ মিনার চত্বরে মানুষের ঢল
রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। সারা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এই দিনটি অনন্য মর্যাদায় স্থাপন করেছে। ১৯৫২ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি বুকে ধারণ করে হবিগঞ্জেও গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় পালিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জেলাজুড়ে ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে দিবসটি উদযাপনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
নিশীথ রাতে জনসমুদ্রের আবেগ
শুক্রবার ঘড়ির কাঁটা যখন রাত ১২টা ১ মিনিট স্পর্শ করে, ঠিক তখনই হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য। প্রথমেই শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। তাঁদের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে সূচিত হয় একুশের আনুষ্ঠানিকতা।
সর্বস্তরের মানুষের ঢল
এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানায় হবিগঞ্জ পৌরসভা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ। সকলের শ্রদ্ধার ফুলে মুহূর্তেই ভরে ওঠে শহীদ মিনারের বেদি, সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় ছিলেন তাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের জন্য।
রক্তিম ইতিহাসের দালিলিক সাক্ষ্য
১৯৫২ সালের এই দিনটিতেই রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে নেমে আসা ছাত্রদের মিছিলে তৎকালীন পুলিশ নির্মম গুলিবর্ষণ করেছিল। সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারের মতো দামাল ছেলেদের বুকের তাজা রক্তে পিচঢালা পথ রঞ্জিত হয়েছিল। ২০১০ সালে জাতিসংঘের স্বীকৃতির পর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে, যা বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষা ব্যবহারকারীদের জন্য এক পরম গর্বের অধ্যায়।
হবিগঞ্জের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, ভাষা আন্দোলনের চেতনা আজও তাদের হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত। প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ এবং শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তারা নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাসের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। একুশের চেতনাকে বুকে ধারণ করেই তারা আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছেন।